ডিজিটাল বায়োমেট্রিক পরিবারের গল্প!

ডিজিটাল বায়োমেট্রিক পরিবারের গল্প!

- in প্রচ্ছ্দ
175
ডিজিটাল বায়োমেট্রিক পরিবারের গল্প! 
 
বাড়ীর বড় কর্তা মারা যাচ্ছেন। ওনার এখন
ফাইনাল স্টেজ। জমে মানুষে টানাটানি চলছে।
চারপাশে ছেলে সন্তান আর নাতি পুতি ঘিরে
আছে। খুব আবেগি একটা মুহুর্ত। পায়ের আঙুল
থেকে বুক পর্যন্ত অবশ হয়ে গেছে। বেচারা শেষ
বারের মত সবাইকে দেখে নিচ্ছে। জিহ্বা নাড়ছেন
কিন্তু কথা বের হচ্ছেনা।
চোখে পানি টলমটল করছে। সবার আহাজারিতে
গুমট একটা পরিবেশ এখন। কর্তা হাত তুলে কিছু
একটা ইংগিত করছেন। ওনার ব্যাবহারের ছোট
আলমিরার দিকে বার বার আঙুল তুলে দেখাচ্ছেন।
কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারছেনা আসলে কি চাইছেন
উনি।
এই বিপদে ত্রাণ কর্তার ভুমিকায় আবির্ভাব হল
তার নাতিন এঞ্জেল বেগম। এঞ্জেল একজন
বায়োমেট্রিক্স পাস ভদ্র মেয়ে। তার সিমের জন্য
অনেক ছেলেই তার পিছে পিছে ঘুরে। সেই সুবাদে
তার ফেসবুকে ৮হাজার ফলোয়ার আর ৪২০০
ফ্রেন্ড। আর কিছুদিন পরেই সে তার লক্ষ্যবেধ
করে ৫০০০ এ পৌছাবে। তার আরেকটা গুন হল
লিপ রিডিং করা। রাতের বেলা যাতে কেউ টের না
পায় সেজন্য মোবাইলের ভলিউম কমিয়ে মুভি
দেখত (কি মুভি সেটা আমি যানিনা,এই ব্যাপারে
আমার হাতে কোন প্রমান নাই) আর কিছু কিছু
বি,এফের সাথে সাইলেন্ট সাইনে কথা বলত। এখন
এঞ্জেল বেগম একজন দক্ষ লিপ রিডার। এঞ্জেল
বেগম অনেক্ষন দাদুর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে
খুশিতে কেঁদে দিল। আহা এমন দাদু কয়জনের হয়।
দাদু যা বললেন তার ফাইনাল মিনিং হল
“কদ্দুইচ (ওনার ছেলে) আমার মুখের সামনে
থেকে তোর মাথা সরা। গুড়া মাছ দিয়া ভাত খাইয়া
ব্রাশ করোসনাই হারামজাদা, তোর মাছের গন্ধে
আমি ৫মিনিট আগেই মারা যামু। আর আমার ওই
আলমিরার নিচের ড্রয়ারে একটা বাক্স আছে।
ওটাতে ৩০ পিছ সিমকার্ড বায়োমেট্রিক
পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে রাখছি। এটাই আমার
সারাজীবনের সম্বল। তোমরা সবাই এটা ভাগ
করে নিও, কেউ মারামারি কইরোনা। তোমরা কি
জানো আজকেই বায়োমেট্রিকের শেষ দিন। আমি
চাইনা আমার মৃত্যুর জন্য তোমরা অনেক বড়
ক্ষতির মুখে পড়। আহহহহহহ মৃত্যু নিয়ে আমার
আর কোন আক্ষেপ নাই। আমার পরিবারের সবাই
এখন বায়োমেট্রিক পাশ!”
এই কথা বলিয়া বড় কর্তা ভবলীলা সাঙ করিলেন।
তিনি মারা যাওয়ার পরেও পরিবারের সবাই ওনাকে
অনেক সম্মান করে। কারন এই পরিবারকে তিনি
ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।
 
 
রবিউল করিম রবি
তারাশ ওয়াবদা বাধ,সিরাজগঞ্জ
০১৭২৬-৭৮২৫১২