সোনাহার-৩ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন কতৃক ছাত্রী ধর্ষনের চেষ্টা

সোনাহার-৩ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন কতৃক ছাত্রী ধর্ষনের চেষ্টা

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ-
সোনাহার-৩ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা। পা ধরে মাপ চেয়ে ও থাপ্পর দিয়ে অভিযুক্তকে সাজা।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় বিদ্যালয়ের রুমে(ভিকটিম) ছাত্রীকে একা পেয়ে জোর করে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষনের চেষ্টা করে বিদ্যালয়ের পিয়ন মকবুল হোসেন। এসময় তার চিৎকারে আশ পাশের লোকজন ছুটে আসলে মকবুল পালিয়ে যায়। ভিকটিম জানান,ঘটনার দিন সকালে প্রাইভেট শেষে আকাশের অবস্থা খারাপ থাকায় ভয়ে বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেই। এসময় বিদ্যালয়ে কেউ ছিলনা। পিয়ন মকবুল আমাকে রুমে একা পেয়ে আমাকে ধরে ধর্ষনের চেষ্টা করে। সে উক্ত ইউনিয়নের চাঁন মিয়া ওরফে চান্দু মিয়ার ছেলে। বিষয়টি প্রতিষ্ঠান প্রধান ইউসুফ স্যারকে ও পরিবারের সদস্যদের জানাই। সে দিন বিকেলে আমার অভিভাবকদের ডেকে ছেলেকে (মকবুল) মাপ নিয়ে ছেরে দেওয়া হয়। ভিকটিম আরো জানায়, স্কুল হতে আমার বাড়ি প্রায় দেড় কিলোমিটার। আমি বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না নানান জনে নানান কথাবার্তা বলেন আমাকে উদ্যেশ করে। সাংবাদিকদের একথা বলতে মেয়ে অঝোর ধারায় চোখের পানি আসতে থাকে। ভিকটিমের কাকা জানান, আমরা গরিব মানুষ সমাজে আমাদের সম্মান কম। তাছাড়া মেয়ে বড় হলে বিয়ে দিতে হবে তাই বিষয়টি বাড়াবাড়ি করছি না।
নাম না প্রকাশে এক অভিভাবক সদস্য জানান, তার নিয়োগটি ক্যাচম্যান এলাকার বাইরে। সার্বক্ষনিক বিদ্যালয়ে একটার পর একটা ঘটনা করে চলছে। এর একটা সুরাহ দরকার। তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া উচিত।
নাম না প্রকাশে এক শিক্ষিকা জানান, আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি সুনাম উপজেলায় ব্যাপক রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর ৭৫ ভাগ বালিকা। বর্তমানে এ ঘটনার পর অনেকে কোচিং ক্লাস ছেরে দিয়েছে। তা ছাড়া আমরা যারা এখানে শিক্ষকতা করছি আমাদেরই নানান কাজে পিয়ন মকবুলকে ডাকতে হয়। এখন তো তার সামনে যেতে আরো বেশি ভয় লাগবে।
প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী জানান, মেয়েটি এবার পিএসসি পরিক্ষায় অংশ নিবে। ঘটনার পর হতে মেয়েটি স্কুলে আসা ছেরে দিয়েছে। কেউ কিছু বললে সারাক্ষন কান্না করছে। আজ শনিবার সকালে মেয়েটিকে বাসা হতে কোন মত বুঝিয়ে বিদ্যালয়ে আনতে পেরেছি।
বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি শাহাজাহান ইসলাম জানান, বিষয়টি আসলে খুবেই দুঃখজনক। তার পরেও আমরা কমিটির লোকজন স্থানীয় ভাবে দু পক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান দিয়েছি। যদিও এরকম কর্মকান্ড আমরা সমাধান দিতে পারিনা।
দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ রুনা লায়লা জানান, আমি বিষয়টি আপনার কাছে শুনলাম। এমন ঘটনা দুঃখজনক। আমি প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিচ্ছি তাকে সাসপেন্ড করার জন্য।