জীবন যেন এক অজানা গন্তব্যে (পেছনের গল্প পর্ব ২)

জীবন যেন এক অজানা গন্তব্যে (পেছনের গল্প পর্ব ২)

- in সারাদেশ
200

অনুসন্ধান করেছেন খাদেমুল আজাদ:

আজকের পেছনের গল্পে পর্ব (২) তুলে ধরব, কাকলীর পতিতা হওয়ার গল্প দেখা যায় আমাদের সমাজে দু’ধরনের  পতিতা  রয়েছে ভাসমান ও প্রাতিষ্ঠানিক পতিতা। প্রাতিষ্ঠানিক পতিতারা রেজিষ্ট্রিকৃত বা অনুমোদিত কোন পতিতালয় থেকে দেহ ব্যবসা করে। আর ভাসমানরা রাস্তাঘাটে, পার্কে বা কোন বাড়িতে থেকে তাদের পেশা চালিয়ে যায়। সালমার সাথে কথা বলে জানা গেল জীবনে কত অনিশ্চয়তা পতিতারই এই জীবনে আসার পিছনে তারও রয়েছে ঘটনা। এই জীবনে তাকে ভোগ করে সমাজপতিরা, ছাত্র,নাইটগার্ড, রিক্সাওয়ালা, বাস ড্রাইভার, বিভিন্ন পেশার পুরুষ। আবার মধ্যবয়সী, যুবক, তরুণ এবং
এমন কি কিশর বয়সের ছেলেরাও আসে কাকলীর কাছে ।

নাম কাকলী (ছদ্ধনাম): আমার এখন বয়স ৩০বছর।১৬ বছর বয়সে আমি এক বাসায় কাজ করতাম। বাসার মালিকের ছেলের সাথে একসময় আমার প্রেম হয় এবং বিয়েও করি। কিন্তু এই বিয়ের সুখ বেশিদিন কপালে সয়না আমার। শ্বশুর-শাশুড়ি আমার উপর অত্যাচার করতে থাকে। অত্যাচারের চোটে আমি ঘর থেকে বেরিয়ে যাই এবং শান্তিবাগে একবাসায় কাজ নিই। একদিন আমি রিক্সা করে বাজারে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ আমার রিক্সায় একটি লোক উঠে পড়ে। ভয় দেখিয়ে আমাকে সে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে যায়। উদ্যানে নিয়ে সে আমাকে টানাহেচঁড়া করতে থাকে। এসময় ৩ জন লোক আমাকে উদ্ধারের নাম করে অন্যত্র নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অন্ধকার হয়ে যায় আমার পৃথিবী। তাই আমি আর বাসায় ফিরে যাই  না। পার্কের এক কোনায় বসে আমি হাউমাউ করে কাঁদতে থাকি। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ছেলে আমাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে নিয়ে যায়। তারা দারোয়ানের কাছে আমাকে রেখে আমার জন্য খাবার আনতে গেলে ঐ দারোয়ান আমাকে ধর্ষণ করে।আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে আমি ভোর রাতের দিকে রাস্তায় নেমে হাঁটতে থাকি। সেখান থেকে কিছু পতিতা আমাকে উদ্ধার করে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। তখন থেকে আমার সুখ-দুঃখের অনুভূতিগুলো নষ্ট হতে থাকে তাই তাই বুকের চাপা কষ্ট নিয়ে আমি পতিতার খাতায় নাম লিখাই।