জীবন যেন কঠিনের চাইতেও কঠিন 290: পেছনের গল্প পর্ব (৪)

জীবন যেন কঠিনের চাইতেও কঠিন 290: পেছনের গল্প পর্ব (৪)

- in প্রচ্ছ্দ
118

জীবন, বয়ে চলা নদীর বাঁকের মত। সবারই রয়েছে পেছনে ঘটে যাওয়া কিছু গল্প,প্রত্যেকটি গল্পই আমাদের কাছে মুল্যবান। পেছনে ঘটে যাওয়া কিছু গল্প থাকে মদুর আবার কিছু গল্প বেদনা,দুঃখ,কষ্ট। প্রত্যেকটি গল্পের পেছনে একটি না একটি কারন থাকে, সেই কারনে হয়তবা কারও জীবন থেমে যায়,আবার কারও জীবন যেন নদীর স্রোতের মত চলতে থাকে অবিরাম। তাই আমরা ”প্রতিদিনের আলোর” অনুসন্ধানিমূলক প্রতিবেদন ‘পেছনের গল্পে’ তুলে আনি সেইসব মানুষের সত্যিকারের ঘটে যাওয়া গল্প।

অনুসন্ধান করেছেন, খাদেমুল আজাদ :

নাম নিশি(ছদ্ধনাম):মেয়েটি কদিন হল অসুখ থেকে উঠেছে। কাজে যেতে পারছে না। কাজের জন্য রাতে বের হতে হয়। বৈরী আবহাওয়া,খদ্দের পাওয়া যায়না। অসুখের জন্য কিছু টাকা ঋণ ও করতে হয়েছে তাকে আরিফার(ছদ্ধনাম) কাছ থেকে। মালা তা বান্ধবী সেও একই কাজ করে। যেভাবেই হোক ঋণের টাকা আগে শোধ করতে হবে। এ পথে এসেছে আজ প্রায় দুই বছর। মামা নিয়ে এসেছে দেশ থেকে ঢাকা শহরে। সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করেও কাজে বের হয় সন্ধা। রাত হলেও সেজে বের হতে হয় না হলে খদ্দেরের চোখে লাগে না। ভালো সাজ দিতে পারলে রেট টাও বেশি।দালাল পুলিশ নিয়ে যায় কাজের অর্ধেকের বেশি টাকা। পথে পথে ঘুরতে হয়,বিশেষ কিছু জায়গা আছে কাস্টমাররা আসে।বৃষ্টি তাই আজ মানুষ কম।তবুও যাদের অনেক ক্ষিধা ঠিকই আসবে,নিশি ও পেট বাঁচাতে হবে অন্য উপায় নেই। কয়েকজনের সাথে কথা বলছে, কিন্তু ধর দামে মিলছে না।রাত প্রায় অনেক হয়ে গেছে।

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিও বাড়ছে। রাস্তা পাড় হবে,ঐপাশ টাই কিছু লোক দেখা যাচ্ছে! রাস্তাটা পাড় হওয়াও অনেক কঠিন। লোকগুলি চলে যাচ্ছে তাই দ্রুত যেতে হবে দুদিক না দেখেই দৌড় দিল নিশি কিন্তু রাস্তাটা আর পাড় হতে পারলো না, একটি প্রাইভেট কার চাপা দেয় নিশি কে। আশপাশের লোকজন জড় হয় সেখানে,লালবাতি এলাকায় খবর পৌছে যায় নিশি এক্সিডেন্ট করেছে। পুলিশ আসে,পুলিশ দেখে মানুষ জন সরে পড়ে। তখনো দেহে প্রান ছিল নিশির।পুলিশ হাসপাতালেয় কথা বলে নিয়ে যায় নিশি। রাত গড়িয়ে সকাল হয়,বৃষ্টির ভাব টা আজ কেটেগেছে। ঝকঝকে রোদ।সেই চির চেনা রাস্তা,বড় বড় গাড়ি শতশত মানুষ।রাতে এখানে কিছু হয়েছিল বুঝারই উপায় নেই।কয়েকটা মানুষ কয়েকটা হাসপাতালে নিশির খোঁজ করেছিল কিন্তু নিশি নামের কোন রোগী এখানে ভর্তি হয়নি। থানায় ও গিয়েছিল,তারাও কিছু জানে না। একটি নিশি রাতের অন্ধকারে গায়েব হয়ে গেল,এভাবে হয়তো প্রতিদিন নতুন করে গায়েব হয়ে অন্য কোন নিশি জীবন। কিছু মানুষ চিরকালই অন্ধকারে থেকে যায়।