ময়মনসিংহে অর্ধশতাধিক পয়েন্টে ছিনতাইবাজদের দৌরাত্ম্যে!

ময়মনসিংহে অর্ধশতাধিক পয়েন্টে ছিনতাইবাজদের দৌরাত্ম্যে!

ছবিঃছিনতাইবাজদের অর্ধশতাধিক পয়েন্টে-প্রতিদিনের আলো
আনিসুর রহমান ফারুক, (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহে অপ্রতিরোধ্য ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ছিনতাইবাজকারী চক্রের সদস্যরা। মাত্র কিছুুুুদিনের ব্যবধানে নগরীর ব্যস্ততম পাটগুদাম ব্রীজমোড় এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বিকাশের এজেন্ট হরিপদ নামে একজন ব্যবসায়ী ও আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ইব্রাহীম খলিলসহ দু ’জন প্রান হারিয়েছেন।সচেতন মহলের দাবি,নগরীতে টহল ও স্থানীয় পুলিশি নজরদারির অভাবে একের পর এক ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে অসহায় ও নিরীহ সাধারন মানুষ।ছিনতাইবাজ চক্রের অপ্রতিরোধ্য দৌরাত্মে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ময়মনসিংহ নগরবাসী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতিমাসের গত ১৮ জানুয়ারি রাতে নগরীর ব্যস্ততম পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বলাশপুর এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ছুরিকাঘাতে ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র ইব্রাহীম খলিল প্রাণ হারান। এ ঘটনায় গত ২৪ জানুয়ারি জেলা গোয়েন্দা ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে কলেজছাত্র ইব্রাহিম খলিল হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাইমকে গ্রেফতার করে। নাইমকে সঙ্গে নিয়ে ওইদিন রাতেই বলাশপুর-বালুঘাট এলাকায় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযান চালালে পুলিশের ওপর ককটেল ও গুলি ছোড়ে ছিনতাইবাজ চক্রের সদস্যরা। কথিত বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় নাইম। এ সময় আটক করা হয় নাঈমের সহযোগী খোরশেদ ওরফে খুসুকে (২৫)। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ছোরা, বিস্ফোরিত ককটেলের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি ইব্রাহিম খলিল হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে ইনছান ওরফে সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে পুলিশ। সাদ্দাম ও খোরশেদ ওরফে খুসু বর্তমানে জেলহাজতে আছে। এর আগে গত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে একই এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হন বিকাশের এজেন্ট ব্যবসায়ী হরিপদ।

এই ঘটনায় পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার চার জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে বিকাশ এজেন্ট হরিকে খুনের কথা স্বীকার করে।স্থানীয় সূত্র আরও জানায়,নগরীর অর্ধশতাধিক পয়েন্টে উঠতি বয়সী ছিনতাইবাজ চক্র বিভিন্ন কৌশলে অপ্রতিরোধ্যভাবে পাটগুদাম ব্রীজমোড়,   পাদ্রী মিশন রোড, বলাশপুর, ময়মনসিংহ পলিটেকনিক এলাকা, মাসকান্দা, জিলা স্কুলের আশপাশ, প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-পিটিআই, কলেজ রোড, টাউন হল মোড়ের আশপাশ, কাচিঝুলি, পুলিশ লাইন, জেলরোড, চরপাড়া, চামড়াগুদাম, র‌্যালির মোড়সহ অর্ধশত স্পটে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা ওঁৎ পেতে থাকে। এসব এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এমনকি দিনে দুপুরেও ছিনতাই হচ্ছে। গত ২০ জানুয়ারি শহরের পিটিআই’র সামনে রিকশায় থাকা এক কলেজছাত্রের গতিরোধ করে মোটরসাইকেল আরোহী তিন ছিনতাইকারী। পরে অস্ত্রের মুখে ওই কলেজছাত্রের কাছ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে তারা। এর আগে শহরের চরপাড়া মোড় থেকে অটোরিকশায় নেক্সাস হাসপাতালে যাওয়ার পথে যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন ব্রাহ্মপল্লী রোডের গৃহবধূ সূচনা। ছিনতাইকারীরা অস্ত্র ঠেকিয়ে সূচনার মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরও উদ্ধার হয়নি মোবাইল ফোন কিংবা সোনার চেইন। গ্রেফতার হয়নি এ ঘটনায় জড়িত কোনও ছিনতাইকারী।ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।তিনি আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া ছিনতাইকারীরা জামিনে বের হয়ে এসে আবারও একই কাজে সক্রিয় হয়ে উঠছে। জনগণের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে ছিনতাই বন্ধে এগিয়ে আসার জন্যনগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।