ডিমলায় অজানা রোগে আক্রান্ত দুই শিশু হাটতে পারছে না : মা-বাবা পাগল প্রায়

ডিমলায় অজানা রোগে আক্রান্ত দুই শিশু হাটতে পারছে না : মা-বাবা পাগল প্রায়

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রেজা,ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :

এ কি হলো আমার কপালে ? কোন দিন ভাবতেই পারিনি আমার সংসার জবিন এমন দর্বিসহ হয়ে উঠবে ? সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে দুই টি ছেলে সন্তান দিয়েছে তাও আবার মাত্র ৭/৮ বছর বয়সেই তাদেরকে এমন কি রোগ দিলো যে তারা এখন পঙ্গু হতে চলেছে ? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুজঁতেই উপস্থিত সংবাদকর্মীদের কাছে কথাগুলি বলছিলেন এক জনম দু:খিনী মা।

একই মায়ের দুইটি সন্তানেই এখন ধীরে ধীরে পঙ্গু হতে চলেছে এমন খবরের খোঁজে ছুটে যায় এ প্রতিবেদক। সেখানেই জানা যায়, অজানা রোগে আক্রান্ত ১৩ বছরের আরিফুজ্জামান বিপ্লব ও ৯ বছর বযসী শিশু লামবাবু এখন আর হাটতে পারছে না। দেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা করালেও কোন চিকিৎসাই কাজে লাগছেনা তাদের। ফলে ধীরে ধীরে পঙ্গু হতে চলেছে সহোদর এই দুই ভাই।

নীলফামারীর ডিমলায় নাউতারা ইউনিয়নের উত্তর নিচপাড়া ভুল্লীরটারী গ্রামের লিটন রানার স্ত্রী গর্ভধারীনি মা স্মৃতি বেগম জানান, জন্মের পর থেকে তাদের কোন রোগ ছিলো না। অন্যসব শিশুদের মতোই স্বাভাবিক ভাবেই স্কুলে যেত, খেলাধুলা ও দৌড়ঝাপ করতো স্বাভাবিক শিশুদের মতোই। বিপ্লব ক্লাস টু-তে পড়তো। আর ছোট ছেলে লাম পড়ে ক্লাস ওয়ানে। এখন তারা আর স্কুলে যেতে পারে না। মা স্মৃতি বেগম জানালেন, ঠিক ৭ থেকে ৮ বছর বয়সে গিয়ে আমার বড় ছেলে বিপ্লব ধীরে ধীরে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এক সময় সে আর হাটতে ও চলতে পারে না। একই ভাবে ছোট ছেলে লাম বাবুও ঠিক একই সময়ে এসে সেও হাটতে ও চলতে পারছে না। বর্তমানে দুটি ছেলেই কথা বার্তা বলতে পাড়লেও এখন পঙ্গু হয়ে শুধুই বসে থাকে। এ নিয়ে অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। টাকাকে কখনও টাকা হিসেবে দেখিনি। যখন যেখানে যে বলেছে সেখানেই নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। রংপুর ও ঢাকায় নিয়েও চিকিৎসা করিয়েছি ছেলে দুইটির। ডাক্তাররা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেও রোগ ধরতে পারছে না শুধু বলছে ডিএমডি রোগে অক্রান্ত হয়েছে। দুটি সন্তানের এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে জনম-দুখী মা-বাবা এখন পাগল প্রায়।

তারা আরো জানান, আমাদের (স্বামী-স্ত্রী)’র রক্তের গ্রুপ একই। কিন্তু ডাক্তার বলেছে রক্তের গ্রুপ একই হলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু কি কারনে আমাদের ছেলে সন্তান দুইটি ধীরে ধীরে এমন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে আর হাটতে ও চলতে পারছে না সে বিষয়ে ডাক্তার কোন উত্তররেই দিতে পারছেন না। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মা স্মৃতি বেগম জানান, আমাদের সন্তানদের যদি চিকিৎসার সন্ধান পাওয়া যেত তাহলে হয়ত আমাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও বাচ্চাদের চিকিৎসা করাতাম। কিন্তু ভাগ্যের কি নিমর্ম পরিহাস যে ছেলে দুইটির এখন আর চিকিৎসা খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। বাবা-মায়ের আকুতি যদি এ রোগের কোন চিকিৎসা খোঁজে পাওয়া যেত তাহলে ছেলে সন্তান দুইটির জন্য শেষ চেষ্টা করে যেতেন তারা।