খালেদা জিয়ার জামিনের ফের শুনানি

খালেদা জিয়ার জামিনের ফের শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে শুনানি মুলতবি করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার ধার্যদিনে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থানের এক পর্যায়ে শুনানি মুলতবি করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ। সে অনুযায়ী আজ শুনানি হবে এবং রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বক্তব্য উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।ওই মামলায় ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চ। একইসঙ্গে এ চার মাসের মধ্যে মামলার আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক প্রস্তুত করতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এ জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে ১৩ মার্চ আপিল বিভাগে পৃথকভাবে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। কিন্তু, জামিন আদেশ স্থগিত না করে আবেদন দুটি শুনানির জন্য ১৪ মার্চ দিন ধার্য করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ১৪ মার্চ এক আদেশে খালেদা জিয়ার জামিন ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। এ সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) লিভ টু আপিল (আপিল অনুমতির আবেদন) দায়ের করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ১৬ মার্চ লিভ টু আপিল করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। ১৯ মার্চ ধার্য দিনে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতাদেশ ৮ মে পর্যন্ত বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত।  বিগত ওয়ান-ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক ও বর্তমানে উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদ। এজাহারে বলা হয়, এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যা ফৌজদারি দ-বিধির ১০৯ ও ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ। পরবর্তী সময়ে উপপরিচালক হারুনুর রশীদ নিজেই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান। তদন্ত শেষে  ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। একই বছর ১২ আগস্ট মামলাটি বিচারিক আদালতে উত্থাপন হয়। ৭ সেপ্টেম্বর মামলাটির ধার্যদিনে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রথম হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি বিচার শুরুর জন্য পাঠানো হয়। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিশেষ জজ বাসুদেব রায়। ওই বছরের ৫ মে মামলাটি পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকায় বিশেষ জজ আদালত থেকে বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অস্থায়ী আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ৩২ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় গত বছর ১২ জানুয়ারি।  একই বছরের ১৯ অক্টোবর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সাতটি ধার্যদিনে খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সর্বশেষ ৫ ডিসেম্বর তিনি নিজেকে নির্দোষ ও খালাস পাওয়ারযোগ্য বলে দাবি করেন। ১৯ ডিসেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ওইদিন দুদকের আইনজীবী দুই ঘণ্টা যুক্তি উপস্থাপন করে দুদকের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন। এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা ২০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছর ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০টি ধার্যদিবসে যুক্তি উপস্থাপন করেন। এ মামলায় কারাবন্দি অপর দুই আসামি শরফুদ্দিন আহমেদ ও সালিমুল হক কামালের পক্ষে ১৭ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ ধার্যদিবসে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। সব পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন পঞ্চম বিশেষ জজ ড. এম আখতারুজ্জামান। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদ- এবং এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে জরিমানা ঘোষণা করা হয় ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সাজাপ্রাপ্ত অপর চার আসামি হলেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগিনা মমিনুর রহমান। এর মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন। জামিনে মুক্ত ছিলেন খালেদা জিয়া। সাজা ঘোষণার পর তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের কপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। রায় ঘোষণার ১২ দিনের মাথায় ১ হাজার ১৬৮টি পৃষ্ঠা সংবলিত রায় এবং আদেশের আরও ৬ কপিসহ মোট ১ হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন আদালত। কপি পেয়ে রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন খালেদা জিয়া। মূল আবেদন ৬০ পৃষ্ঠার সঙ্গে ১ হাজার ২২৩ পৃষ্ঠায় নিম্ন আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দাখিল করা হয়। পরে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।