কুমিল্লায় ডাকাতের গুলিতে ডাকাত নিহত

কুমিল্লায় ডাকাতের গুলিতে ডাকাত নিহত

মো:রবিউল আলম”কুমিল্লা প্রতিনিধি”
কুমিল্লায় ডাকাতিকরতে গিয়ে ডাকাতের গুলিতে দেলোয়ার হোসেন ওরফেদেলু (২৮) নামে আরেক ডাকাত নিহত হয়েছেন। রোববার মধ্যরাতে জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার গোমকোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ডাকাতদের আক্রমণে দুই সহোদর গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হন।নিহত দেলু নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার আহম্মদপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে। তিনি ওইএলাকার চিহ্নিত ডাকাত বলে পুলিশের দাবি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ‘নিহত ডাকাত দেলোয়ারের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।’এছাড়াও গুলিবিদ্ধ দুই সহোদর গোমকোট গ্রামের প্রফুল্ল চন্দ্রের ছেলে বিধান দেবনাথ (৩৫) ও রিগান দেবনাথকে (৩০) কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাদেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত তিনটার দিকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকারা ইউনিয়নের গোমকোট প্রফুল্ল চন্দ্রের বাড়িতে ৯ সদস্যের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতেরা ঘরের লোকজনদের মারধর করে টাকা-স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যেতে চাইলে প্রফুল্ল চন্দ্রের ছেলে বিধান দেবনাথ ও রিগান দেবনাথ বাধা দেয়।এ সময় ডাকাতেরা দুই সহোদরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ডাকাত আক্রমণের খবর প্রচার করে তাদের ঘিরে ধরার আহ্বান জানান।গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে ডাকাতদল চারদিকে গুলি ছোঁড়ে দৌড়ে পালাতে থাকে। একপর্যায়ে ডাকাতদলের সদস্য দেলোয়ার হোসেন দেলু গুলিবিদ্ধ হয় এবং তাকে ঘিরে ফেলে কয়েকজন গ্রামবাসী। তখন দেলুর সাথে ধস্তাধস্তিতে রহিম ও মাহবুব নামে দু’জন আহত হন। এসময় উত্তেজিত জনতা আটক দেলুকে বেদম মারধর করতে থাকে।পরে পুলিশ এসে অজ্ঞান অবস্থায় দেলুকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। অপরদিকে গুলিবিদ্ধ সহোদর বিধান ও রিগানকে নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর সোমবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, রাতে গোমকোট গ্রামের একটি হিন্দু বাড়িতে ডাকাতের হানার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়েছি। এর আগে গ্রামবাসী দেলোয়ার নামে এক ডাকাতকে আটক করে পিটুনি দেয়।পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর মারাযায় সে।