সাভারে নকল মোড়কের আইসক্রিম কারখানা !

সাভারে নকল মোড়কের আইসক্রিম কারখানা !

আব্দুস সালাম (রুবেল) : 
সাভারের পৌর এলাকা ডগরমোড়া  ‘যমুনা আইসক্রিম’ নামে একটি   নকল মোড়কে  আইসক্রীম তৈরীর  কারখানা । কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে ইগলু, পোলার, কোয়ালিটি সহ আরো অনেক নামীদামী  মোড়ক ব্যবহার করে তাদের তৈরী আইসক্রিম বাজারজাত করে আসছে।বৃহস্পতিবার (১৭ই মে) ওই কারখানায়  দেখা যায়, একটি টিনসেট বাড়ির গেইটে ‘যমুনা আইসক্রিম’ লেখা একটি স্টিকার লাগানো।    অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক নানারকম রং ও ফ্লেভার মিশ্রিত কয়েকটি ড্রাম। চিনির পরিবর্তে সেকারিন, দুধের বিপরীতে বিষাক্ত রাসায়নিক পাউডার, নারিকেলের পরিবর্তে দানাযুক্ত সাদা ভূষি, আটা-ময়দা সহ বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে একটি ড্রামে তৈরী করা  হচ্ছে  বিশেষ ধরনের এক মিশ্রন।কারখানাটির ফ্রিজগুলোতে ভেতর মজুত রয়েছে শত শত আইসক্রীম যার মোড়কে লেখা ইগলু, পোলার, কোয়ালিটি আইসক্রিম। মোড়কে নেই কোন উৎপাদন কিংবা মেয়াদ উত্তীর্নের তারিখ, নেই বিএসটিআই এর অনুমোদন।  আইসক্রিমের ভোক্তাদের একটি বড় অংশ হচ্ছে শিশুরা।আইসক্রিম  কারখানার মালিক আব্দুর রউফ  মুঠোফোনে বলেন- ভাই আমি একজন অ্যামেরিকা প্রবাসি, এ ব্যবসা খুব ভালো একটা বুঝিনা। অন্য কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার এবং উৎপাদন-মেয়াদ উত্তীর্ন তারিখ উল্লেখ না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমার কারখানা চালুর পর থেকে এ নিয়ে কোন সমস্যা হয়নি এবং মোড়কে ব্যবহারিত কোন কোম্পানি থেকে এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি। তবে আপনাদের সমস্যা হলে আমি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব ঠিক করে নিব বলে লাইনটি কেটে দেন।উপস্থিত শ্রমিকরা জানায়,কুলফি, মালাই, অরেঞ্জ ললি, চকবার ইত্যাদি সহ প্রায় সব ধরনের আইসক্রিম তৈরী করে তারা এবং এই কারখানার সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় হলো ‘আসল বগুড়ার দই’।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলে, সাভারের প্রায় সব এলাকাতেই আমরা আইসক্রিম ও দধি দিয়ে থাকি। আমাদের নিজস্ব মার্কেটিং এর লোক আছে এবং গাড়ীতে করে বিক্রির জন্য আলাদা লোক আছে।  অর্ডারের উপর নির্ভর করে আমদের উৎপাদন সংখ্যা । তবে প্রতিদিন আমরা প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকার আইসক্রিম এবং দই বিক্রি করতে পারি।এলাকাবাসি  জানায়- এ আইসক্রিম কারখানাটি বরাবরই নোংরা পরিবেশে ক্ষতিকর রং ও ফ্লেভার মিশিয়ে লাল-নীল ইত্যাদি রঙের আইসক্রীম তৈরী করে আসছে। যা সহজেই শিশুদের মনকে আকৃষ্ট করতো।  প্রসাশনের চোখ ফাকি অধিক মুনাফার আশায়  তারা নকল মোড়ক ব্যবহার করে  আইসক্রিম কারখানা চালিয়ে যাচ্ছেন।