নজরু‌লের ১১৯ তম জন্মজয়ন্তী আজ

নজরু‌লের ১১৯ তম জন্মজয়ন্তী আজ

‌নিজস্ব প্র‌তি‌বেদকঃ

গা‌হি সা‌ম্যের গান, মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান, নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সব দেশে, সল কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।  সৃষ্টি সুখের উল্লাসে বাঁধনহারা কবি কাজী নজরুল ইসলাম। যার কবিতা গান উপন্যাস গল্পে আমরা জীবনের জয়গান করি। তাকে আমরা পাই দ্র্রোহে, পাই মানবতায়, প্রেমে, সাম্যে। কোথায় নেই তিনি? বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। বাঙালির সব আবেগ, অনুভূতিতে আছেন কবি।

আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বাংলা, ২৫ মে ২০১৮  এই মহান কবির ১১৯তম জন্মজয়ন্তী। রাষ্ট্রীয় আয়োজন ছাড়াও দিনটিতে থাকছে নানা আয়োজন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তারা কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ১৮৯৯ সালের আজকের দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি। কাজী নজরুল ইসলামের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। ১৯৪২ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান কবি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নজরুলকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরে কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি।
নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।  নজরু‌লের  জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৬:১৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ছাত্রী-ছাত্রীরা কলা ভবন প্রাঙ্গণে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হবেন এবং সেখান থেকে সকাল ৬:৩০ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা সহকারে কবির মাজারে গমন করবেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কবির মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে মাজার প্রাঙ্গণে উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় নজরুল বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালন করবেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী। এছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হবে।
জাতীয় জাগরণে কবি নজরুল’ প্রতিপাদ্যে সরকারিভাবে বাংলাদেশে নজরুলের স্মৃতিধন্য ময়মনসিংহের ত্রিশাল, ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ আয়োজনে ‘জাতীয় জাগরণে কবি নজরুল’ শিরোনামে স্মারক বক্তৃতা রাখবেন বেগম আকতার কামাল। বাংলা একাডেমি দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা ও কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে আজ বেলা ১১টায় একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তিকলা মিলনায়তনে থাকছে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়া শিশু একাডেমি, নজরুল একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে।