সাভারে নারী নির্যাতন অভিযোগ দিয়ে হয়রানি

সাভারে নারী নির্যাতন অভিযোগ দিয়ে হয়রানি

 আব্দুস সালাম (রুবেল),সাভার :
 ঢাকার সাভারে হেমায়েতপুর যাদুরচর এলাকায়   নারী নির্যাতন এর মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে  ফাসানোর   চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
 সাভার মডেল থানায় গত (২১মে) একটি ধর্ষণ মামলা হয় তিনজনের বিরুদ্ধে।
মামলার বাদী আব্দুস সালাম  মে মাসে ধর্ষণ মামলা হওয়ার আগে গত ২৪.৪.২০১৮ তারিখে একটি ধর্ষণ মামলা হয় সেই মামলা গ্রেপ্তার হয়ে  জেলহাজতে রয়েছেন  এস এম মনির (৪৪), পিতা মৃত জয়নাল আবেদিন,  ।  আব্দুস সালামের ৯ বছরের শিশু কন্যাকে ২২ এপ্রিল, ২০১৮ ইং তারিখে বিকাল আনুমানিক ০৪:১৫ ঘটিকার সময় একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বাদী আব্দুস সালাম ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে  এস এম মনির এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ করে। এই মামলা তদন্তনাধীন রয়েছে।  জানা যায়, একই বিবাদী আব্দুস সালাম (৪৮) তাঁর একই কন্যাকে ধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে সাভার মডেল থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে। এবার আসামী তিনজন।  অভিযোগে উল্লেখ করা হয় , ২০ মে, ২০১৮ তারিখে রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনজন তার প্রধান আসামী রাজু ধর্ষণ করে বাকী দুইজন সহযোগীতা করেন বলে  আব্দুস সালাম   ধর্ষণ মামলা করেন।
 ঘটনাটি(২২মে) অনুসন্ধান করতে গিয়েই চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বের হয়ে   আসে।  । একই বাদী এবং ভিকটিমও একই দেখে স্বভাবতই অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ঘটনার আরো তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে  ভয়ংকর ঘটনা যানা যায়।   ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন এলাকাবাসীর বক্তব্য নেয়া হলে তার প্রতারণের ঘটনা বেরিয়ে আসে।
ধর্ষণ মামলার বাদী  পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময়ে তিনি অসহায় হয়ে উপায়ান্তর না দেখে পুলিশের ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে রাত আনুমানিক ৯ টার সময়ে পুলিশ এসে তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করে। তদন্তে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, বাদি ৯৯৯ নাম্বারে আদৌ কোনো ফোনই করেন নাই। কারণ ঘটনাস্থলে বসবাসরত অন্য ভাড়াটিয়াদের ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী সেই রাতে পুলিশ  এসেছিলো, কিন্তু সেটা গভীর রাতে।  পুলিশের কোনো দলই এখানে আসে নাই এবং ধর্ষিত শিশুটিকেও উদ্ধার করে নাই। বরং তারা যা বলেছেন তাতে যে কেউই শুনে শিউরে উঠবেন।
বাদী আব্দুস সালামই নিজের মেয়ের উপরে  নির্যাতন চালিয়ে এর আগেও কয়েকবার নিরীহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করে চাপ দিয়ে অর্থ আদায় করেছে। বাদী নিজে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করায় এমনিতেই এলাকায় দম্ভ ভরে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। সে নিজের মেয়ের উপর জোর খাটিয়ে শরীরের  কাপড় ছিড়ে ফেলে এর আগেও কয়েকবার ধর্ষণ চেষ্টা নাটক সাজিয়েছিলো জানালেন এই ঘটনাস্থলের ভিডিও বক্তব্য প্রদানকারী সকলেই। বাবা কিভাবে নিজের মেয়েকে দিয়ে  অন্যদের ফাঁসিয়ে অর্থ আদায় করতে পারে এই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদ এর  সাবেক মেম্বার  পলাশের মুঠোফোনে কথা বলে  জানা গেছে, গত দুই/তিন মাস আগে তিনিই বিচার করে আব্দুস সালাম কে ১০ হাজার টাকা আদায় করে দিয়েছিলেন রিপন নামের একজনের কাছ থেকে। তখনো বাদী  এই পুলিশ সোর্স একই অভিযোগ এনেছিলো।
 টাকা নিয়ে রিপন এর সাথে আব্দুস সালামের  আপোষের বিষয়ে মুঠোফোন জানতে চাইলে  সাভার থানার  উপপরিদর্শক এবিএম শাহ আলম  বলেন আব্দুস সালাম টাকা নিয়ে আপোষ করেছেন  বলে জানান।  শাহ আলম আরও বলেন আব্দুস সালাম তার মেয়েকে দিয়ে মানুষ হয়রানি করাই তার কাজ।
ঘটনাস্থল এর এলাকাবাসী  মুক্তার মাস্টার, আব্দুল ওহাব  এবং নাম্প্রকাশে অনুচ্ছুক আরো এক নারী ভিডিও বক্তব্যে জানান, আব্দুস সালাম  সর্বশেষ যে অভিযোগটি করেছে সেটা  সাজানো।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষকলীগ,সাভার থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কবির হোসেন বলেন, ‘এই আব্দুস সালাম আমার বাসায় ভাড়া থাকতো। সে খুবই নিচু প্রকৃতির মানুষ। রিপন নামের যে ছেলেটির বিরুদ্ধে সে তাঁর মেয়েকে ধর্ষনের ব্যাপারে অভিযুক্ত করেছিলো, পরবর্তীতে সেটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এই সময় আমি নিজে থেকে তাকে সালিশের দ্বারা ১০ হাজার টাকা পাইয়ে দিয়েছিলাম। এতেই সে অভিযোগটি তুলে নিয়েছিলো। এরপর আমি নিজেই আমার বাসা থেকে তাকে বের করে দিলে সে অন্যত্র পরিবার নিয়ে চলে যায়। আসলে এই লোক এবং তাঁর মেয়ে-উভয়েই খারাপ প্রকৃতির। ‘
মামলার বাদী আব্দুস সালামের মুঠোফোনে কল করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণ করার সময়ে আমি একা থাকায় বাধ্য হয়ে ৯৯৯ এ কল করে পুলিশের সাহায্য চেয়েছি।’ তবে দেড় মাসের ব্যবধানে দুই বার কিভাবে আপনার মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলো জানতে চাইলে প্রথমে তিনি কিছু বলে নাই পরে তিনি  প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমার স্যার আছেন আমার সাথে, দাঁড়াও তোমার ব্যবস্থা করছি’ এই বলে সে ফোন কেটে দেয়।  তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম নবী যে নিজেই ৯৯৯ এ কল পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করার কথা স্বীকার করেছেন, তারই সোর্স এই আব্দুস সালাম।   এভাবে নিরীহ লোকদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ  হচ্ছে রসহ্যজনক  বলে দাবী করেন এলাকাবাসী।
সর্বশেষ গত ২১মে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পরিদর্শক গোলাম নবীর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগটি তদন্তনাধীন রয়েছে এবং আসামীদেরকে ধরার চেষ্টা চলছে।
ঢাকা জেলা  পুলিশ সুপার(অপরাধ) সাইদুর রহমানকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি বলেন তদন্ত করে দেখা হবে।