ঈদে শাড়ি-লেহেঙ্গা বিক্রির ধুম

ঈদে শাড়ি-লেহেঙ্গা বিক্রির ধুম

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা ঃ 

ঈদ, পূজা, বিয়ে ও পহেলা বৈশাখ সব উৎসবেই বাঙালি নারীর প্রধান পোশাক শাড়ি। শাড়ির আবরণেই নারীর সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তাই শাড়ি নারীর কাছেও প্রিয় পোশাক। এবারের ঈদেও তাই শাড়ির দোকানে ভিড় বাড়ছে। এ ঈদে কাতান শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তারপর রয়েছে সূতি শাড়ি ও লেহেঙ্গা। বসুন্ধরা শপিংমল, রাপা প্লাজা, মেট্রো শপিংমল, এআর প্লাজা, ইস্টার্ন মল্লিকা, ইস্টার্ন প্লাজা, নিউমার্কেটসহ নগরীর সব শপিংমল ও মার্কেটে শাড়ি ও লেহেঙ্গার বাজার যেমন গরম ভিড়ে, তেমনি দামে।

রাপা প্লাজার ‘ময়ূরী’ শাড়ির দোকানে রয়েছে কাতানের সম্ভার। এখানে রয়েছে সর্বনিম্ন দাম ৭ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা দামের শাড়ি। বসুন্ধরা শপিংমলের ‘প্রেমজয়ে’ রয়েছে কাতান, সিল্ক , জর্জেট ও সূতি শাড়ি। ঈদের মাত্র ৯-১০ দিন বাকি। এখন নগরবাসীর প্রধান কাজ শপিং। তাই বৃষ্টি, যানজট, দামের ঊর্ধ্বগতি ও রাস্তাঘাটের শোচনীয় অবস্থা তাদের ঈদ কেনাকাটা ঠেকাতে পারছে না।

বসুন্ধরার চামেলী শাড়িজে রয়েছে সিল্ক কাতান, চেন্নাই কাতান, আর্র্মি কাতানের সম্ভার। কাঁটাবনের আল বারাকা টাওয়ারের ‘টপটেন মার্টে’ কাতানের ওপর সোনালি পেটানো কাজের শাড়িটি ভালো যাচ্ছে। বিয়ের কথা মাথায় রেখে এখানে আরও রয়েছে বিভিন্ন রঙের লেহেঙ্গা। রাপা প্লাজার ‘ডায়ানা’য় বেনারসি বিক্রি ভালো। দামে ও মানে রকমের ভিন্নতা থাকলেও ১৪ হাজার ৫০০ টাকা দামেরটাই বেশি যাচ্ছে। জ্যোতির সেলস এক্সিকিউটিভ হারুন অর রশিদ জানান, তার দোকানে খাড্ডি ও মনপুরা কাতানের বিক্রি সন্তোষজনক। দাম ৩ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। মিনেকরা গাদোয়নের জ্যেলুসও রয়েছে এখানে।

বসুন্ধরা শপিংমলের ‘সিল্ক হাউজে’ ভারতীয় সিল্কের জয়জয়কার। এখানকার বিক্রয়কর্মী বশির আহমেদ জানান, চেন্নাই সিল্ক, জমিন শিফন ও পাড় সার্টিন এবং জমিন ও কুঁচিতে দুই রং, কুঁচির সঙ্গে মিলিয়ে ব্লাউজ। এসব শাড়ি অল্প বয়সিরা বেশি পছন্দ করছেন। দাম ৩ হাজার থেকে শুরু করে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত।

দেশীয় শাড়ি হাউজ, আড়ং, প্রবর্তনা, সাদাকালো, নিপুণ, বাংলামেলা, ফড়িংসহ সব শোরুমেই সূতি শাড়ির বিক্রিবাটা ভালো। সূতির মধ্যে টাঙ্গাইল ছাপা চলছে বেশি। দামও সহনীয়। দেড় হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাড়ির জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সূতির শাড়িই কেনা হয় বেশি। শ্যামলীর গৃহবধূ বিথী আলম জানান, সাদাকালো থেকে দুটি শাড়ি কিনেছেন। দাম ৪ হাজার টাকা করে। তিনি বলেন, এবার সাদাকালো ট্রাইবাল মোটিফের ভিন্ন ধরনের শাড়ি বাজারে ছেড়েছে। এছাড়া এদের রয়েছে এমব্রয়ডারি করা মসলিনের শাড়ি। দাম ২২ হাজার টাকা। সাদা জমিনে সোনালি সুতার জারদৌসি কাজের মসলিন ক্রেতাদের মন কেড়েছে। বাংলামেলায় সিলভার কালার পাড় ও আঁচল, হালকা হলুদ শাড়িটির বিক্রি বেশি। মেট্রো শপিংমলের নীল আঁচলের বিক্রয়কর্মী জুলফিকার আলী জানান, কপার রঙের জমিনের দামি ও গর্জিয়াস লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে বিয়ের জন্যই। মিরপুর ১০-এর শাহ আলী প্লাজার ‘শাড়ি বিচিত্রা’য় শাড়ির সঙ্গে লেহেঙ্গাও বিক্রি হচ্ছে। ৩ হাজার ৫০০ টাকা দামের কাতানের বিক্রি ভালো। এখানকার স্বত্বাধিকারী মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ঈদে শাড়ি বিক্রি বেশি। তবে কারচুপি ও এমব্রয়ডারি লেহেঙ্গার কদর রয়েছে। দাম ২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।