ডিমলায় গৃহবধুঁর স্বাভাবিক মৃত্যুকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত : মৃত্যুর প্রমানপত্র স্ট্রোক

ডিমলায় গৃহবধুঁর স্বাভাবিক মৃত্যুকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত : মৃত্যুর প্রমানপত্র স্ট্রোক

জাহাঙ্গীর রেজা, ডিমলা ( নীলফামারী) প্রতিনিধি :

নীলফামারীর ডিমলায় দুই সন্তানের জননী গৃহবধুঁ লাইলীর স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও হত্যার অভিযোগে স্বামী-শশুড় গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ১৯ জুন’১৮ মঙ্গলবার ভোরের দিকে গৃহবধুঁ লাইলী বেগম (৩৫)কে উচ্চ রক্ত চাপের কারনে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে স্বজনরা নিয়ে আসেন। জরুরী বিভাগের কতর্ব্যরত চিকিৎসক দক্ষিন তিতপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম’র স্ত্রী লাইলী বেগমকে রেজি: নং-৮১০৯/১-এ ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন। এ সময় চিকিৎসক রোগীর রক্তচাপ রেকর্ড করেন ২৩০/১৩০ মিলিমিটার অফ মার্কারী এবং ওই ব্যবস্থা পত্রে ’’স্ট্রোক’’ উল্লেখ করে তিনি তাৎক্ষনিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (র.চি.ম.হা)উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে রেফার্ড করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীর সঙ্গে থাকা স্বামী,শশুড়,শাশুড়ী এবং পথিমধ্যে লাইলীর মা ও ভাই গাড়ীতে ওঠে রোগীকে নিয়ে রংপুরে গমন করেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঐদিন সকাল ৮.৩৫ মিনিটে ভর্তি করা হয়। যার রেজি:নং-২০৮৬। র.চি.ম.হা ভর্তি করিয়ে সেখানেও কতর্ব্যরত চিকিৎসক চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসারত অবস্থায় রোগী একই দিনে সকাল ৯.১৫ মিনিটে মারা যায়। চিকিৎসক ”ইরিভারসেবল কারডিওস্পেরেটি সেল্যুউট ডিউ টু এ্যাকুট স্ট্রোক” উল্লেখ করে মৃত্যুর প্রমান পত্র প্রদান করেন। এদিকে মৃত গৃহবধুঁ লাইলীর লাশ নিয়ে এ্যাম্বুলেন্স যোগে রংপুর থেকে স্বামী শফিকুলসহ সকলেই ডিমলা নিজবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে আসতে থাকেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রের নিল নকসায় মৃত লাইলীর চাচা, খালু ও ভাই মিলে লাইলীর স্বামী-শশুড় ও আত্বীয় স্বজনদের মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে লাশবাহী গাড়ী জলঢাকার ”দুন্দিবাড়ী” নামক স্থানে আটক করেন।
ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা কু-চক্রী মহলের পরামর্শে ও ভারাটে লোকজন দিয়ে লাশবাহী গাড়ীতে থাকা স্বামী-শশুড়-শাশুড়ীকে টেনে হেচড়ে বেড় করে দিয়ে লাশবাহী গাড়ীটি ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার প্রায় ৪৫ মিনিট পর আবারও একই জায়গায় গাড়ীটি নিয়ে আসেন দুবৃর্ত্তরা বলে জানান গাড়ীতে থাকা লাইলীর শাশুড়ী আলিফা বেগম। তিনি আরো জানান, ছিনতাই করা ওই ৪৫ মিনিটের মধ্যেই লাশের উপড় পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে তারাই আবার বিভিন্ন ভাবে প্রচার করে মিডিয়া কর্মীদের কাছে জানান লাইলীকে শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। কু-চক্রী মহলের পরিকল্পনা অনুযায়ী লাইলীর ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মৃত লাইলীর স্বামী শফিকুলকে প্রধান আসামী করে অন্য আরো ৫ জনকে বিবাদী করে ঘটনার দিনেই একটি মিথ্যা হত্যা মামলা (২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধিত/০৩ এর ১১ (ক)/৩০ ধারায়) দায়ের করেন ডিমলা থানায়। যাহার নম্বর-১৭ তাং-১৯/০৬/১৮। এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত অফিসার এস.আই রাসেদুজ্জামান জানান, আমরা মেডিকেলের ছাড়পত্র ও মৃত লাইলীর মৃত্যুর প্রমান পত্র দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে আরো অধিকতর তদন্ত করা হবে। এদিকে এই মিথ্যা হত্যা মামলায় স্বামী শফিকুল ইসলাম ও শশুড় সমসের আলী দ্রুত গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় বইছে সমালোচনার ঝড়। মিথ্যা মামলার শিকার ভুক্ত ভোগী আসামীরা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়ে বলেছেন এ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন। আইন শৃখংলা বাহীনির বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে তদন্তের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসীও।