জয় লড়াকু সুইসদের

জয় লড়াকু সুইসদের

ক্রীড়া ডেস্ক ঃ 

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একমাত্র দল হিসেবে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিল সুইজারল্যান্ড। গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও সার্বিয়াকে ২-১ গোলে হারাল তারা। এ জয়ে শেষ ষোলোতে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল সুইজারল্যান্ড। হারলেও শেষ ষোলোতে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়নি সার্বিয়ারও। কারণ দুই খেলায় ৩ পয়েন্ট রয়েছে তাদের। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৪ করে পয়েন্ট ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের। তাই এ গ্রুপ থেকে ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড ও সার্বিয়ার শেষ ষোলোয় যাওয়ার পথ খোলা থাকল এখনও।
এই গ্রুপের প্রথম মাচে কোস্টারিকাকে ১-০ গোলে হারায় সার্বিয়া। ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের অন্য ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। তাই সুইজারল্যান্ডকে হারালেই শেষ ১৬ নিশ্চিত হয়ে যেত সার্বিয়ার। এমন লক্ষ্যে কালিনিনগ্রাদে ম্যাচের শুরুটা চমৎকার করে সার্বিয়া। ম্যাচের ৫ মিনিটেই মিডফিল্ডার দুসান টেডিচের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে ১-০ ব্যবধানে সার্বিয়াকে এগিয়ে দেন স্ট্রাইকার আলেক্সান্ডার মিত্রোভিচ। শুরুতে চাপে পড়লেও ভেঙে পড়েনি সুইজারল্যান্ড। প্রতিপক্ষের সীমানায় ঠিকই আক্রমণ চালিয়েছে তারা। ৬৯ শতাংশ বল দখলে নিয়ে আক্রমণ করলেও প্রথমার্ধে সফল হতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের দেখা পায় তারা। ৫২ মিনিটে সার্বিয়ান ডি বক্সের প্রায় ২০ গজ দূর থেকে তীব্র শট গোল করেন সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত ঝাকা। ফলে ম্যাচে ১-১ সমতা আনে সুইজারল্যান্ড। সমতা আসার পরও গোলের জন্য মরিয়া ছিল সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে চমক দেখায় সুইজারল্যান্ড। মধ্য মাঠে থেকে স্ট্রাইকার মারিও গাভরানোভিচের লং পাস দেন জেহারদেন শাকিরিকে। বল পেয়ে সার্বিয়ার গোল মুখে ছুটে যান তিনি। বলকে সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোল আদায় করে নেন শাকিরি। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবধানেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড। ২৭ জুন মস্কোয় সার্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। একই দিন নিজনি নভগোরোদে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়বে কোস্টারিকা।
ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নেওয়ায় শিষ্যদের দারুণ প্রশংসা করেন ভøাদিমির পেটকোভিচ। তার মতে, এমন লড়াকু মানসিকতাই জয়ের কারণ, ‘সত্যিই আমি আনন্দিত। ম্যাচটি দারুণ উত্তেজনার ছিল। আমাদের জন্য শুরুটা রোলারকোস্টারের মতো হয়ে গেছে। ভালো শুরুর প্রত্যাশা থাকলেও গোল হজম করে একদম নিচে পড়ে যাই। কিন্তু বড় ব্যাপার হলো, ছেলেরা তাদের মানসিকতা দেখিয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম যেন ম্যাচটা ভালোভাবে জিততে পারি। কিন্তু গোল হজম করে সব পাল্টে যায়। তবে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে দল জিতেছে এটা বিশাল ব্যাপার। এমন চরিত্র শুধু বড় দলগুলোই দেখাতে পারে। এ জয়ের পর ছেলেরা নিজেদের বড় দল হিসেবে দেখতে পারে। এটা অবশ্যই বিশ্বকাপে আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক।’
বিরতির পরই পাল্টে যায় ম্যাচের দৃশ্য। সার্বিয়ার ওপর দাপট দেখাতে শুরু করে সাইজারল্যান্ড। বিরতিতে শিষ্যদের কী বলেছিলেনÑ এমন প্রশ্নে সুইস কোচ বলেন, ‘প্রথম অর্ধের পর কেউই ভাবেনি আমরা ফলটা পাল্টাতে পারব। কিন্তু এটাই ফুটবল। অবশ্যই ড্রেসিংরুমে নিজেদের মধ্যে হওয়া কথা এমন ভাবে ফিরে আসায় বড় প্রভাব ফেলে। আমি ওদের বলেছি, এই ম্যাচে এ দল নিয়ে ড্র আমি মানতে পারব না। ওরা আমার কথার মানে বুঝেছে। আমি এতেই খুশি।’