ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়বঃপ্রধানমন্ত্রী

ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়বঃপ্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা ঃ 

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। জাতির পিতা বলেছিলেন- ভিক্ষুক জাতির কোনো সম্মান থাকে না। তিনি বলেন, ৯ বছরে আমরা সমুদ্র তলদেশ থেকে মহাকাশে চলে গেছি। বাংলাদেশ এখন স্যাটেলাইট ক্লাবের সদস্য। এটি আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়।শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিতসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা শুরু হয়।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত উন্নয়নের পরও যদি জনগণ ভোট না দেয়, তা হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দায়ী থাকবেন। কারণ তখন বুঝতে পারব ক্ষমতায় থাকতে আপনি জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। টাকার বিনিময়ে কাজ করেছেন। এ কারণে জনগণ আপনাকে ভোট দেয়নি।

সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম, কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও দফতর সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, যারা অন্যদলের লোকজনকে দলে ভেড়াচ্ছেন তারা মনে রাখবেন, যাদের দলে ভেড়াচ্ছেন তারা আপনার আপন লোক নয়। এরা মামলা থেকে বাঁচতে অথবা মধু খাওয়ার জন্য দলে ভিড়ছে। এরাই কিন্তু আপনাকে খুন করে দলের বদনাম করবে। সুতরাং ওদের সম্পর্কে সচেতন থাকুন। ওরা কোনোদিনই আপনাদের আপন হবে না। দলের যে লোকজনকে আপনারা অবহেলা করছেন, তারাই আপনার আপন লোক।

শেখ হাসিনা বলেন, যাকে প্রার্থী করা হবে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। প্রার্থী পছন্দ হোক আর না হোক নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। নির্বাচনে জনগণ ভোট দেবে। জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে যেন ছিনিমিনি খেলা না হয়।

তিনি বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। তার পর তাকে হত্যা করা হল। পরিবার হারিয়ে আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে আমার পরিবার। এখানে আমি বাবা-মায়ের আদর ও ভাইবোনের ভালোবাসা পেয়েছি।

তিনি বলেন, একজন রাজনীতিবিদের চিন্তাভাবনা থাকবে- কীভাবে আমরা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারি। নিজের ভাগ্য নয়, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনেই আমাদের কাজ করতে হবে।

পদ্মা সেতু নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণের ষড়যন্ত্র করেছিল বলে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমরা নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারছি। এ সময় তিনি দেশের উন্নয়নের কথা জনগণের মধ্যে তুলে ধরতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।