ফেরার পথে ভোগান্তি, বাড়তি ভাড়া

ফেরার পথে ভোগান্তি, বাড়তি ভাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ 

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে তারা রাজধানীতে কর্মস্থলে ফেরার পথে পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিভিন্ন মহাসড়কে যানজটের কারণে তাদের এ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া ফেরিতেও পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্ট। লঞ্চগুলোয় যাত্রীদের অস্বাভাবিক চাপ। এতে বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে তাদের। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের ২০ থেকে ২৫ মিনিট আগেই ঘাট থেকে রাজধানীর উদ্দেশে ছাড়ছে লঞ্চ। রাতের আঁধারে দ্বিগুণ-তিনগুণ যাত্রী নিয়ে এসব লঞ্চ যাত্রা করায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে মির্জাপুরের কুরণী পর্যন্ত এ যানজট ছিল। এতে কর্মস্থলমুখী যাত্রী ও শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে মানুষ কর্মস্থলমুখী হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই মহাসড়কে যান চলাচল কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অন্যদিকে ঈদের আগে মহাসড়কের চার লেন খুলে দেওয়া হলেও বর্তমানে কয়েকটি ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকাগামী যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। শুক্রবার ভোর থেকে গাড়ির চাপ আরও বেড়ে গেলে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় ঢাকাগামী যান চলাচল আটকা পড়লে যানজট স্থায়ী হয়। একপর্যায় যানজট মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে মির্জাপুর উপজেলার কুরণী পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী হয়।

সিরাজগঞ্জে মহাসড়কে যানজট : ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার ভোররাত থেকে এ মহাসড়কের যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় গোলচত্বর থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত এ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সুপার মেরাজ উদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা এ যানজট নিরসনে কাজ করে যান।

যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোয় উপচেপড়া ভিড় : চাঁদপুরে দিনের চেয়ে রাতের বেলা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোয় উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন নিয়মিত এ রুটে ২২টি লঞ্চ চলাচল করছে। প্রতিটি লঞ্চ ধারণক্ষমতার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ যাত্রী নিয়ে রাতের আঁধারে চাঁদপুর নৌসীমানা থেকে পাড়ি দিয়ে পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকা অভিমুখে যাচ্ছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে দেখা যায়, হাজার হাজার যাত্রী নৌ-টার্মিনালে অবস্থান করছেন।

কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে বাড়তি ভাড়া : শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুট হয়ে কর্মস্থলমুখী যাত্রী ও যানবাহনের ঢল নামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিমুলিয়া ঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহনশূন্য ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোট এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে প্রশাসন। বাড়তি ভাড়া ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে ওপার থেকে যাত্রীশূন্য এসে নৌযানগুলো সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কঠোরতায় যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

যাত্রীর ঢল শিমুলিয়া ঘাটে : রাজধানীমুখী যাত্রীর ঢল নেমেছে শিমুলিয়া ঘাটে। শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এ ঢল। দুপুর ১২টার পর থেকে যাত্রীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষকে। কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিগুলো শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রী নামিয়ে দিয়েই যাত্রীশূন্য হয়ে ফেরত যাচ্ছে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে। সকাল থেকেই মাওয়া বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ঘাট এলাকাসংলগ্ন বাসের টিকিট কাউন্টারে যাত্রীদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। মাওয়া নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরজিৎ ঘোষ জানান, শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিমুলিয়া ঘাটে রাজধানীমুখী যাত্রীর ঢল নামে।

দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি : ঈদের পর কয়েক দিন দৌলতদিয়া ঘাট স্বাভাবিক থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকেই যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ থাকায় কর্মমুখী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের একাধিক সারি হয়ে যাওয়ায় মাঝে মাঝে ফেরিতে লোড-আনলোড বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে ফেরির দেখা মিলছে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার যাত্রীবাহী বাসের একাধিক লম্বা সারি ছিল। লঞ্চে নদী পার হওয়ার জন্য যাত্রীরা লোকাল গাড়িতে দৌলতদিয়া ঘাটে আসছেন।