ডিমলায় বিজিবি’র মতবিনিময় সভা

ডিমলায় বিজিবি’র মতবিনিময় সভা

জাহাঙ্গীর রেজা, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত এলাকা পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিংহেরশ্বর চর, ফুলছড়িপাড়া ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ গ্রামে অবৈধ গরু ব্যবসায়ী, চোরাচালানকারী, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে ইউপি’র হলরুমে ১৩ জুলাই’১৮ শুক্রবার বিকেলে উক্ত ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন থানারহাট বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মো: বিল্লাল হোসেনসহ বিজিবি সদস্যরা। মত বিনিময় সভায় কোম্পানী কমান্ডার বিল্লাল হোসেন বলেন, সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু আসা,ভারতীয় মাদক দেশের অভ্যন্তরে ঢুকানো ও চোরাচালান রোধে বিজিবি কঠোর হস্তে দমনে বদ্ধপরিকর। তিনি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আমাদেরকে সহযোগীতা করুন। আপনারা আমাদের প্রতিপক্ষ নন। সীমান্তে অবৈধ ব্যবসাকারীরাই আমাদের একমাত্র প্রতিপক্ষ দেশের এবং জাতির শত্রু। তিনি আরো বলেন, আমরা জানি কালীগঞ্জ সামীন্তে ভারতীয় গরু আনা হতো এক সময়। সে সব গরু বুড়িমারী কড়িডোরের মাধ্যমে তা রাজস্ব দেওয়ার পরেই বৈধ গরু হিসেবে দেশের অভ্যান্তরে ক্রয়-বিক্রয় করা হয়েছিলো। কিন্তু এখন আর এ রুটে কড়িডোর খোলা না থাকায় এসব গরু অবৈধভাবে আসায় তা কালোবাজারে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা উর্দ্ধতনের নির্দেশে এখন তৎপর রয়েছি কোন ভাবেই সীমান্তে গরু দেশের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সভায় অবৈধ গরু ব্যাবসা পরিচালনাকারী ও ব্যবসায়ী পশ্চিম ছাতনাই ইউপি’র সদস্য জাকিরুল ইসলাম প্রধান বলেন, সম্প্রতি হঠাৎ তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় পানিতে ভেঁসে ভারতীয় প্রায় দেড় শতাধিক গরু দেশের অভ্যন্তরে আমাদের সীমান্তে চলে এসেছে। বর্তমানে গরুগুলি নিয়ে আমরা বিপাকে আছি। বিজিবি’র কড়া নজরদারীতে গরুগুলি বাইরে বের করতে পারছি না। আমরা কথা দিচ্ছি অবৈধভাবে আর কোন গরু আনা হবে না। তবে এ মজুদকৃত গরুগুলি বিক্রয়ের সুযোগ চাই বিজিবি’র কাছে। প্রশ্নের উত্তরে কোম্পনী কমান্ডার বলেন, এসব অবৈধ গরুর ব্যাপারে আমরা কিছুই বলতে পারবো না বলেন। ভারতীয় গরু পাইলেই আমরা জব্দ করবো প্রয়োজনে টার্ক্স ফোর্স গঠন করে তার মাদ্যমে উদ্ধার করা হবে। আর সেই টাক্স ফোর্সের মাধ্যমে আপনাদের বাড়ীতে রাখা অবৈধ ভারতীয় গরু উদ্ধার করে সরকারের কাছে জমা করা হবে। কালীগঞ্জ সীমান্তে বসবাসকারী এন্দা মামুদের পুত্র রাশেদ (২৫), গহের উদ্দিনের পুত্র জহুর উদ্দিন, মনির উদ্দিনের পুত্র লাভলু, মমতাজ উদ্দিনের পুত্র জুনু, জামাল উদ্দিনের পুত্র জমুদ্দি, আলমেসের পুত্র আব্দুল , বুদারু মামুদের পুত্র ওয়াহেদুল ও মাহাবুরের পুত্র মোরসালিনসহ আরো অনেকেই অবৈধভাবে এসব ভারতীয় গরু চোরাই পথে নিয়ে এসে স্থানীয়দের বাড়ীতে লুকিয়ে রেখে ক্রয়-বিক্রয় করেন বলে সরজমিনে ঘুরে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এদিকে সম্প্রতি এসব অবৈধভাবে ভারতীয় দেড় শতাধিক গরু চোরা পথে এনে তা বিক্রয় করতে না পারায় চরম বিপাকে পরেছে সহযোগী অবৈধ গরু ব্যবসায়ীরা। অবৈধ এসব ভারতীয় গরু বাড়ীতে রেখে অনেকটা বিপদে আছে কালীগঞ্জে বসবাসকারী মজিবর রহমানের পুত্র মশিয়ার রহমান, আত্তুস আলীর পুত্র আলী হোসেন, জাহেদুল, তছিমুদ্দি প্রধানের পুত্র মিলন, দৌলত ইসলামের পুত্র সামনুর, ছমের আলীর পুত্র এন্দা মামুদ, আব্দুল জব্বার, আজিজার, আবু কালামসহ আরো অনেকেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্তে বসবাসকারী রাশেদ, আব্দুল, জুনু ও জাকিরুল শুধু অবৈধভাবে গরুর ব্যবসাই করেন না, তারা মাদক ও অবৈধভাবে মানুষ পারাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আর এসব অবৈধ ব্যবসায় জড়িত থাকায় তারা এখন প্রশাসনকেও বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে অবৈধ উর্পাজনের অর্থে স্থানীয়দের ম্যানেজ করায় কেহই এখন মুখ খুলছে না। মতবিনিময় সভায় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ খাঁন বলেন, সীমান্তে এসব ব্যবসা চালানোর পক্ষে আমি নেই। আপনারা এসব বন্ধ করুন। তা না হলে দেশের প্রচলিত আইনে আপানাদের অবৈধ কোন ব্যবসা প্রশাসন ধরতে পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি উপস্থিত সকলকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমরা শিঘ্রই রংপুরে যাবো সিও’র কাছে আবেদন জানাবো কালীগঞ্জ পয়েন্টে একটি করিডোর খোলার ব্যাপারে। সরকারীভাবে করিডোর খোলা হলে সরকার এখানে বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করবে। সেই সাথে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে বৈধ ভাবেই।