পশ্চিম বাদুরতলা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাগামহীন দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর রাজাপুরে হত্যা মামলার আসামি রানার হুমকি অব্যাহত

পশ্চিম বাদুরতলা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাগামহীন দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর রাজাপুরে হত্যা মামলার আসামি রানার হুমকি অব্যাহত

কামরুল হাসান মুরাদ:

ঝালকাঠির রাজাপুরে পশ্চিম বাদুরতলা নিম্ন  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পরে ঐ স্কুলটি অকস্মিক প্রাথমিক পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন। শনিবার ১৪ জুলাই সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুলের নির্দেশে উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার (মাধ্যমিক) সুমন বিশ্বাস স্কুলটি পরিদর্শনে গেলে একমাত্র আঃ আজিদ নামের সহকারি শিক্ষক ঐ স্কুলে উপস্থিত পাওয়া যায়। পরিদর্শন কর্মকর্তা পরবর্তী দুই ঘন্টা (১২টা ১৫ মিনিটি) পর্যন্ত স্কুলে অবস্থান করলে খবর পেয়ে পর্যায়ক্রমে অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত হলেও প্রধান শিক্ষক মোঃ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু সবার শেষে উপস্থিত হয়। স্কুল প্রতিষ্ঠাতার দাবীদার ও জুনিয়র শিক্ষক দুর্নীতির কারিগর আবু বকর ছিদ্দিক একেভারেই অনুপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঐ স্কুলে কাছকাছি পৌছালে পথি মধ্যে পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তার সাথে দেখ হলে তার সাথে আলা শেষে সাংবাদিকরা একত্রে ফিরে আসেন। এ সময় এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রানা ঐ কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতার দাবীদার ও দুর্নীতির কারিগর শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিক এর বড় ছেলে তিনি। উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার সুমন বিশ্বাস এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে স্কুলটি পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্কুলটি পরিদর্শনে এসে প্রথমে একজন শিক্ষক উপস্থিত পেয়েছি। পরে হয়তো খবর পেয়ে কিছু শিক্ষক উপস্থিত হলেও কোন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। এছাড়াও স্কুলের কোন খাতাপত্র পাওয়া না গেলেও নতুন একটা রেজুলেশন খাতা রয়েছে তার প্রথম পাতায় ১৯ এপ্রিল ২০১৮ সালের একটি রেজুলেশন ছাড়া আর কোন কিছুই লিপিবদ্ধ নেই। উল্লেখ্য স্থানীয়রা জানায়, কথিত প্রতিষ্ঠতা বিএনপি নেতা আবুবকর ছিদ্দিক ও তার মাদক ব্যবসায়ী পুত্রদ্বয় বাদুতলার বহুল আলোচিত শিশু শিক্ষার্থী ফারজানা হত্যা মামলার আসামি। স্কুলটির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক মিয়ার মৃত্যুর পর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে প্রতিবেশির বিবাদীয় জমি দখলের উদ্দেশ্যে স্কুলটি স্থাননন্তর করে নিজ বাড়ির সম্মূখে নাম মাত্র পূঃন স্থাপন করেন। পরিদর্শনের সময় স্কুলের বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় যুক্ত হওয়া স্থানীয়দের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্নীতিবাজ আবুবকর ছিদ্দিকের পুত্র চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছাত্রদল নেতা রানা মটরসাইকেল যোগে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে বিভিন্ন রকমের মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকি দেয়। তিনি উচ্চস্বরে হুমকি প্রদর্শ করে বলেন যারা স্কুলের ব্যাপারে মুখখুলবে তাদের সন্তানদের অবস্থা ফারুক মল্লিকের মেয়ে ফারজানার মতোই হবে।