কালিয়াকৈরে স্বামীর ছোড়া এসিডে স্ত্রী ও শ্বাশুরী দগ্ধ, স্বামী পলাতক

কালিয়াকৈরে স্বামীর ছোড়া এসিডে স্ত্রী ও শ্বাশুরী দগ্ধ, স্বামী পলাতক

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর এলাকায় শুক্রবার পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর এসিড নিক্ষেপে স্ত্রী ফারজানা আক্তার(২২) ও শ্বাশুরী পারভীন বেগমের(৪৫) শরীর জ¦লসে দিয়েছে। এসিড ছোড়ে জ¦লসে দেয়ার ঘটনার পর ফারজানা আক্তার ও শ^াশুরীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
ওই ঘটনার পর থেকে স্বামী আল আমিন (২৫) পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, কালিয়াকৈর লতিফ পুর এলাকার কম্পিউটার অপারেটর সুলতান উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের পক্ষের ছেলে আল আমীনের সাথে ফারজানা আক্তারের সম্পর্ক গড়ে উঠার মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার সকালে গৃহবধূ ফারজানার মা বাবাসহ কিছু আতœীয় লতিফপুর গ্রামের হাজী নুরুল ইসলামের বাড়ীর ভাড়া বাড়ীতে আসেন। পরে একটি পারিবারিক শালিশের মাধ্যমে গৃহ বধূ ফারজানাকে ডির্ভোস দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্বামী আল আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে রাখা এসিড শরীরে নিক্ষেপ করেন। এসময় এসিড দগ্ধ দুই নারী চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দগ্ধদের উদ্ধার করে তাৎক্ষনিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। শ^াশুরী পারভীন আক্তারের বাড়ী গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকার পানিশাইল গ্রামে। গৃহবধু ফারজানা আক্তারের আবির হাসান ফাইম নামের সাড়ে তিন মাসের এক শিশু সন্তান রয়েছে।
আল আমিনের বাবা সুলতান আহম্মদ জানান, আল আমিন আমার স্ত্রীর আগের পক্ষের সন্তান। আল আমিনের স্ত্রীর আগেও বিয়ে হয়েছিল। ওই পক্ষ থেকে তালাকপ্রাপ্ত হয়ে আল আমিনের সাথে প্রেম করে বিয়ে করে। তবে এসিড নিক্ষেপের ঘটনাটি আমার জানা নেই।
কালিয়াকৈর থানার ওসি তদন্ত মাসুদ আলম জানান, এসিড নিক্ষেপের ঘটনাটি রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানার পর পুলিশ পাঠিয়ে খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে ওই বাড়ীতে কাউকে পাওয়া যায়নি। এসিড দগ্ধ দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।