সাভারে লিজেন্ড স্কুলের শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

সাভারে লিজেন্ড স্কুলের শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকার সাভারে লিজেন্ড স্কুলের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে গতকাল বুধবার সকালে সকল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্কুল ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রধান শিক্ষক কাছে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করলেও কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারনে নিরব ভূমিকা পালন করছে।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে জানা গেছে, সাভারের ওয়াপদা রোডে অবস্থিত লিজেন্ড স্কুলের দ্বিতীয় টিউটোরিয়াল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে শতভাগ নম্বর পায়নি শিক্ষার্থীরা। ১৭ জুলাই মঙ্গলবার বাংলা শিক্ষিকা আয়শা সিদ্দিকী পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস রুমে গিয়ে কেন সকলে শতভাগ নম্বর পায়নি বলে ডেকে  স্কেল দিয়ে ঐ ক্লাসেরই উপস্থিত কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম করেন। ঐ দিন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শরীরে আঘাতের চিহৃ দেখে স্কুলে গিয়ে ঘটনাটির প্রতিবাদ জানিয়ে অধ্যক্ষের কাছে বিচার দাবি করেন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নিরব ভূমিকা পালন করে বলে জানান অভিভাবকেরা। ১৮ জুলাই (বুধবার) পুন:রায় অভিভাবক ও শিক্ষাথীরা বিষয়টির প্রতিবাদ জানায় এবং বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে আসে।শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা আরো জানায়, শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে চারজন শিক্ষার্থী এখন ব্যাথায় কাতর হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।উল্লেখ্য, আয়শা সিদ্দিকী ক্লাসে গিয়ে বলেন, তিনি কষ্ট করে পড়িয়েছেন। কেন ভাল পড়ানোর পরও তারা একশ নম্বর পেলনা। এই বলে একজন একজন করে ডেকে নিয়ে স্কেল দিয়ে পিটিয়েছেন। এদের ভিতরে কয়েকজনকে খুব বেশী করে পেটান আয়শা সিদ্দিকী।শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, এই শিক্ষিকা ক্লাসে কথায় কথায় গালি-গালাজ করে এবং স্কেল দিয়ে পেটানোসহ নানাভাবে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে থাকেন।স্কুলের এক শিক্ষক  নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, গতকাল আয়েশা সিদ্দিকী নামের এক শিক্ষিকা কয়েকজনকে মারধর করেছেন এটি সত্য।এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে লিজেন্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের কাছে গিয়ে মুঠোফোনে তার ভিডিও বক্তব্য নেবার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি এই প্রতিবেদকের মুঠোফোন  ছিনিয়ে নেন। পরবর্তীতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বলেন, এই রকম কোন ঘটনা ঘটে নাই। একটু ভুল বুঝাবুঝির বিষয়ে অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে আমরা  সমাধান করে নিয়েছি বলে জানান।তবে লিজেন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকের অফিসে সকালে নির্যাতনের বিষয়ে তার অনুমতি নিয়ে ভিডিও রেকর্ড করার সময় মুঠোফোন থাবা মেরে রেকর্ড বন্ধ করে দেন। গণমাধ্যম কর্মীর সাথে একজন প্রধান শিক্ষকের এহেন আচরন কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা ভাবার বিষয়। লিজেন্ড স্কুলের শিক্ষিকা আয়েশা সিদ্দিকার মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করার পরও তিনি ফোন রিসিপ করেননি তাই তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।সাভার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন নাহারের মুঠোফোনে লিজেন্ড স্কুল এর ৫ম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের ওই স্কুলের শিক্ষিকা আয়েশা সিদ্দিকার নির্যাতনের বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি বলেন,  কোন অবস্থায় বাচ্চাদের নির্যাতন করা যাবে না। অভিভাবকরা সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।