ইতিহাস-ঐতিহ্যখোলা কলামপ্রচ্ছ্দসম্পাদকীয়সারাদেশ

অপরূপ সুন্দর্যের লিলাভূমি চলনবিল

লুৎফর রহমান,তাড়াশ:

সিরাজগ্ঞ্জ,নাটোর ও পাবনা এই তিন জেলার প্রায় নয়টি উপজেলায় বিস্তৃত ছোট বড় খাল, বিল ,নদ নদী,জলাশয়,ছোট বড় ডোবা নিয়ে ঐতিহাসিক চলনবিল গঠিত । সিরাজগ্ঞ্জ জেলার তাড়াশ,রায়গঞ্জ,উল্লাপাড়া,শাহজাদপুর,নাটোর জেলার সিংড়া,গুরুদাসপুর পাবনা জেলার ফরিদপুর,চাটমোহর ্ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রায়১২ হাজার বর্গমাইল এরিয়া নিয়ে চলনবিলের পরিসীমা । বাংলাদেশের বড় বিল গুলোর মধ্যে সর্ব বৃহৎ এই চলনবিল। এখানে বষর্ৃাকালে যেদিক তাকানো যায় সেদিকে শুধু পানি আর পানি । পানির জলরাশি জুড়ে ঢেউয়ের খেলায় চলনবিলকে মুখরিত করে । দেশের উৎপাদিত মাছের অন্যতম প্রধান উৎস এই চলনবিল । এখানে পাওয়া যায় শিং,মাগুর কই,পবদা টেংরা,বালুচাটা,শোল,বোয়াল,গজার,বাইম,নন্দই,পুঁটি,চিতল,টাকি সহদেশীয় নানা প্রজাতির মাছ ।




প্রতি বছরেই বষর্ৃাকালে প্রাণ ফিরে পায় এই চলনবিল। তাই এই সময় চলনবিলে বিনোদনের জন্য আসে ভ্রমন পিপাসুরা। চলনবিলের অথৈয় ঢেউয়ে নৌকায় চড়ে, চলনবিলের বুক চিরে পাল তোলা নৌকায় নীল আকাশের নিচে বেড়ানোর মজাটাই আলাদা। শুধু কি চলনবিল ভ্রমণ কর্ইে শেষ হয় ? না , এছাড়াও জনগনের সমারোহে মুথরিত হয়ে থাকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের শাহ সুফি জিন্দানী (রঃ) মাজার, রাধা গোবিন্দ মন্দির,তালমের শিব মন্দির ,মথুরা দিঘী,উলিপুর দিঘী,শিশু পার্ক,
বিনসাড়া গ্রামে বেহুলা লক্ষীনদারের কুপ,কুন্দইল ব্রীজ,৮,৯,১০ নং ব্রীজ, রায়গঞ্জের জয়সাগর দিঘী,
নাটোরের সিংড়ায় ঘাসি দ্ওেয়ানের মাজার, পেট্রবাংলা জিরো পয়েন্ট,চলনবিলপার্ক,গুরুদাসপুরের
চলনবিল জাদুঘর ও বিলসা ব্রীজ,পাবনার চাটমোহরের হান্ডিয়াল- নিমাইচড়া বিল ও ব্রীজ অন্যতম দর্শণীয় স্থান সমূহে।

এছাড়াও,বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা নৌকা পথে চলনবিলের আত্রাই,গুড়নদী,বরনাইনদী,বড়াল
নদী,তুলসী নদী,চেচুয়ানদী ,ভাদাইনদী,গুমানীনদী বয়ে ব্যবসা করে জীবন যাবন করে থাকেন ।্ নৌকা যোগে ব্যবসা করাটাও ভ্রমণের মতো।

তাই দেশ বিদেশে পরিচিত এই বিলকে পর্যটকদের কাছে আকষৃর্নীয় করার জন্য হোটেল মোটেলের সুবিধাসহ কয়েকটি দর্শনীয় স্পটকে আধুনিকায়ন করলেই এটি হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ।




চলনবিল এলাকার কৃতি সন্তান ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ আব্দুল আজিজ বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখছি বর্ষাকালে চলনবিল এলাকায় যেদিক চোখ যায় শুধু শুধু পানি আর পানি । আর এই পানির উপরে ভেসে চলছে রাশি রাশি পাল তোলা নৌকা। তাই সরকারী বেসরকারি উদ্যোগে চলনবিল এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুললে আবারও আমরা পেতে পারি অতীতের স্মৃতি বিজরিত দৃশ্যাবলী।
চলনবিল এলাকার কৃতি সন্তান পেট্রবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান ড: হোসেন মনসুর বলেন ,চলনবিল এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিল। এখানে বর্ষাকালে বেড়াতে আসেন বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্রমণ পিপাসু জনগন। । কাজেই চলনবিলে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুললে এটা হবে দেশ বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ।

Related Articles