ইতিহাস-ঐতিহ্যসারাদেশ

জলঢাকায় ১৭০টি মন্দিরে চলছে দূর্গোৎসবের প্রস্তুতি

ফরহাদ ইসলাম,জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ

চন্ডিপাঠ,ডাক-ঢোল,শঙ্খ বাজিয়ে মঙ্গলঘট স্থাপনের মধ্যদিয়ে সোমবার মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় দূর্গোৎসবের ক্ষণ গননা শুরু হয়েছে। এ উৎসব নির্বিঘেœ ও উৎসব মূখর করতে এবং যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নজরদারীর ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায়। এবারে আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসবে উপজেলায় ১টি পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে মোট ১৭০টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। শারদীয় উৎসবকে আড়ম্বরপূর্ণ করে তুলতে পূজা কমিটি গুলোর শেষ প্রস্তুতির কাজ চলছে। মন্ডপ গুলোকে বর্ণিল সাজে সাজাতে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করছে মন্দিরের সেচ্ছাসেবক সহ কমিটির লোকজন। রঙ্গিন আলোক বাতি ও বাহারি প্যান্ডেলে সাজানো হয়েছে পুজা মন্ডপ গুলো। অপর দিকে প্রতিমা গুলোকে আকর্শনীয় ও প্রাণবন্ত করে তুলতে মৃৎ শিল্পীরা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে প্রতিটি পূজা মন্ডপে। রং তুলির আঁচরে প্রতিমা গুলোকে জীবন্ত করে তোলার আপ্রাণ চেষ্ঠায় ব্যস্ত শিল্পীরা। এই উৎসবকে ঘিরে নারিকেলের নারু,মুড়ির মোয়া,সন্দেশ ও দই তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন পরিবারের নারীরা। উৎসবে নতুন কাপড় কিনার ধুম পড়েছে কাপড়ের দোকান গুলোতে। ১৫ অক্টোবর দেবীর বোধনের মধ্যদিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে চলবে ১৯অক্টোবর দশমী পূজা ও বিসর্জনের দিয়ে শেষ হবে ৫ দিনের এই উৎসব। ৫দিনের এই দূর্গোৎসব নির্বিঘেœ ও শাান্তি পূর্ন ভাবে পালনের জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলার প্রতিটি পুজা মন্ডপের সভাপতি-সম্পাদকসহ উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায় এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ আলীর,থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিভা আমজাদ,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু,সাধারন সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল,উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জ্যোতিশ চন্দ্র সরকার,সাধারন সম্পাদক অনিল কুমার রায়,সাংগঠনিক সম্পাদক ও জলঢাকা রির্পোটার্স ইউনিটি’র সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় রায় প্রমূখ। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জ্যোতিশ চন্দ্র সরকার জানান, ‘গত বছরের তুলনায় এবারে কয়েকটা পূজা মন্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, আশাকরছি পুজা চলাকালীন সময় আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গোৎসব শেষ হবে।’ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন,‘দূর্গাপূজায় আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায় জানান,উপজেলার ১৭০ টি পূজা মন্ডপের বিপরীতে সরকার (জি,আর) থেকে ৮৫ মেঃ টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, প্রতিটি মন্ডপে সমান ভাগে করে চাল দেওয়া হবে।

Related Articles