গফরগাঁওয়ে দাখিল মাদ্রাসায়নি ভুয়া সার্টিফিকেটে শিক্ষক য়োগের অভিযোগ

গফরগাঁওয়ে দাখিল মাদ্রাসায়নি ভুয়া সার্টিফিকেটে শিক্ষক য়োগের অভিযোগ

আব্দুল মান্নান পল্টন,ময়মনসিংহ ব্যুরো,
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বারবাড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত বীর বখুরা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় সহকারি শিক্ষক শরীর চর্চা পদে নিয়োগে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার সুপার ও পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতির যোগসাজসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুয়া বিজ্ঞাপন ও জাল সার্টিফিকেটে সরকারি নিয়ম লঙ্গন করে অত্যান্ত গোপনে ইমরান হোসেন নামে এক শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান করেছেন। এক বছর পর্যন্ত মাদ্রাসার শিক্ষক থেকে শুরু করে পরিচালনা কমিটির অন্যান্ন সদস্যরাসহ এলাকার কাউকে নিয়োগের বিষয়টি জানাননি তারা। জাল সার্টিফিকেট ভুয়া বিজ্ঞাপনে অবৈধ নিয়োগের তদন্ত দাবী করে গত বৃহস্প্রতিবার দুপুরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির নতুন সভাপতি আবুল হাশেম বাদী হয়ে গফরগাঁও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দায়েরকৃত অভিযোগ সুত্রে জানা যায় ইমরান হোসেনের দাখিলকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে, শিক্ষক নিবন্ধন, বিপিএডসহ তার অধিকাংশ সনদই জাল।
চাকুরীর আবেদন করার সময় তার দাখিলকৃত জীবন বৃত্তান্তে ২০০৩ সালে এস এস সি, ২০০৫সালে এইচ এসসি, ২০০৯সালে গফরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
কিন্তু পরবর্তিতে ১৯৯৯সালে কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ পাশের সার্টিফিকেট দাখিল করে এমপিও ভুক্তির সুযোগ লাভ করেন। ২০০৩সালে এস এস সি ১৯৯৯সালে বিএ পাশ করার এমন ঘটনায় স্কুলের অন্যান্ন শিক্ষক থেকে শুরু করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জাল সার্টিফিকেটের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এ ছাড়াও তার এস এস সি সার্টিফিকেটে জম্ম তারিখ দেয়া আছে ১/১/১৯৮৮, কিন্তু এমপিওতে জম্ম তারখি উল্লেখ করেছেন ০১/০১/১৯৭৮, নিবন্ধন সার্টিফিকেটে জম্ম তারিখ দেয়া হয়েছে ১০/০১/১৯৮৮ এখানে জম্ম তারিখেও ১০ বছর ব্যবধান।
২০১২সালে সাভার ফিজিক্যাল কলেজ থেকে বিপিএড, আবার ২০০২সালে সরকারি ফিজিক্যাল এন্ড কলেজ ঢাকা থেকে বিপিএড পাশের সার্টিফিকেট দাখিল করেছেন। তার শিক্ষক নিবন্ধন সার্টিফিকেটটিও অনলাইনে সার্চ করে পাওয়া যায়নি।
২৭ জুলাই ২০১৪ ইং তারিখে ময়মনসিংহের স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও ভুয়া বলে দাবী করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নতুন সভাপতি আবুল হাশেম। তিনি জানান উল্লেক্ষিত তারিখে প্রকাশিত পত্রিকাটি সংগ্রহ করেছি তাতে মাদ্রাসার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নেই।
মাদ্রাসার সুপার মোঃ হাবিবুল্লাহ বলেন ১৩-০৯-২০১৪ সালে ইমরান হোসেনকে সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেয়া হয়েছে , এটা শত্রুতামুলক মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে।
নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক ইমরান হোসেন বলেন আমার সব সনদ অরিজিনাল, শত্রুতার জেরধরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি চলতি মাসের ২৯ তারিখ অভিযুক্ত শিক্ষককে আমার কার্যালয়ে ডেকেছি কাগজ পত্র দেখে তদন্ত পুর্বক ব্যাবস্থা নেয়া হবে।