বর্জিত একটি নারীর জীবনের টানাপোড়ার কাহিনী

বর্জিত একটি নারীর জীবনের টানাপোড়ার কাহিনী

গল্পটি ধারনে ছিলেন খাদেমুল আজাদ:

নাম আখলিমা বেগম ( ছদ্ধনাম ) : আমার যখন বয়স ২৫। বছর দশেক আগে আমার বাবা-মা বিয়ে দেন আমাকে। দু’টি সন্তান যখন আমার কোল  উজ্জ্বল করে তখন আমার স্বামী আরেকটি বিয়ে করে। তখন যেন আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে যখন আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে যায় তার নতুন স্ত্রীর কাছে। আমার দু’টি সন্তানের প্রিয়মুখ আমাকে দিন দিন পাগল করে তোলে। রোজগারের জন্য কাজ খুঁজতে থাকি। ৩০০ টাকা বেতনে কাজ খুঁজে পাই একটি গার্মেন্টসে। ৩ মানুষের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে ৩০০ টাকাকে অস্ত্র করে লড়াই করতে থাকি। সন্তানরা বড় হতে থাকায় আমার জীবনটা আরও কঠিন মনে হতে থাকে। শেষে অনেক কষ্টে একটি চুড়ির কারখানায় কাজ নেই ৯০০ টাকা বেতনের। টাকায় সংসার চালাতে গিয়ে  প্রতিনিয়তই হোঁচট খেতে থাকি। একসময় এক মহিলার সাথে আমার পরিচয় ঘটে। তখনও আমি জানতাম না যে ঐ মেয়েটি একটি পতিতা। মেয়েটি একদিন আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে যায় এক লোকের কাছে। লোকটি আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আমার হাতে গুঁছে দেয় কিছু টাকা। এভাবে আমার পতিতা বৃত্তির সাথে পরিচয় ঘটে। আমি অপবিত্র হয়ে যাই, আমার জীবন পাল্টে যায়। আমাকে সবাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। পেটের দায়ে এবং সন্তানদের দিকে চেয়ে আমি ঢুকে যাই এই পতিতা পেশায়। আমাকে এখন সমাজে সবাই ঘৃণা করে। রাতের অন্ধকারে যারা আমার কাছে আসে দিনের বেলায় সে আমাকে চেনে না, চিনতে চায় না। আমার জীবনটা প্রচন্ড কষ্টে ভরে আছে। এই জীবন থেকে আমি মুক্তি চাই।