শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়াম রুপায়নে সৈয়দপুরের ক্রীড়ায় মহোৎসব

শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়াম রুপায়নে সৈয়দপুরের ক্রীড়ায় মহোৎসব

এম আর মহসিন,সৈয়দপুর সংবাদদাতাঃ জরাজীর্ণ কিংবা কাটা ফসলের ক্ষেত হোক। কোনটাই খালি নেই। ক্রিকেট নয়ত ফুটবল খেলা চলছে। এতে সৈয়দপুরে ক্রীড়ায় যেন মহোৎসবের ধুম পড়েছে। তবে এ মাত্রা আরো বাড়িয়েছে সরকারের দেয়া শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়ামের রুপায়ন প্রকল্পটি। এতে সৈয়দপুর ষ্টেডিয়ামটি যৌবনময় কৈশোরে পরিণত হয়েছে। উদ্বেলিত খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদীরা তাই ক্রীড়ায় সোনালী অতীতকে পেরিয়ে আরো উচ্চ সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন।
শীতের কুয়াশায় শিশির জমতেই ক্রীড়া সংগঠকরা সৈয়দপুর উপজেলার পল্লী এলাকার স্কুল-কলেজের মাঠ কিংবা ধান কাটা ফসলের ক্ষেতে শুরু করেছেন ফুটবল বা ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট। বসে নেই শহরের সংগঠকরা। তারাও আয়োজন করেছেন শহরের প্রাণকেন্দ্রে সৈয়দপুর ষ্টেডিয়াম মাঠে ১৬ দলের আঞ্চলিক ক্রিকেট এবং রেলওয়ে মাঠে ৩২ টি দল নিয়ে উপজেলা ফুটবল টুর্ণামেন্ট। ভিন্ন ইভেন্টের দুটি মাঠে প্রতিদিন হাজারো দর্শক ভিড় করছে। ক্রীড়া মোদিদের উল্লাসে আবারো মাঠ দুটিতে ভর করেছে উম্মাদনা। এ যেন বাংলার চিরায়ত রুপ। তবে প্রভাব পড়েছে সরকারের শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়াম নির্মাণ বাস্তবায়ন প্রকল্পটি । ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ড্রেসিং ও বাথরুম ভবন মাঠের সিমানার বাহিরে ৩৫টি বসানো চেয়ার এবং অফিসঘর মেরামতে যেন আবারো নব যৌবনে সেজেছে রুগ্ন সৈয়দপুর স্টেডিয়াম। এতেই খেলোয়াড়,সংগঠক ও ক্রীড়ামোদিদের মধ্যে আগামি দিনের সাফল্যে স্বপ্নে পথ চলা করেছে।


একটি সুত্র জানায়,সরকারি পৃষ্টপোষকতায় সৈয়দপুর ক্রীড়া সংস্থার অধীনস্থ পৌর ১১ নং ওয়ার্ডের কুন্দল পুর্ব পাড়া এলাকায় প্রায় ৬.৭ একর জমির ওপর নির্মিত সৈয়দপুর স্টেডিয়াম। যা তৎকালীন সরকারের আমলে ১৯৮০ সালে গড়ে তোলা হয়। তবে স্টেডিয়ামের পুর্ণাঙ্গ রুপ পায় ১৯৮৬ সালে। মাঠ সংস্কার,চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি একতলা অবকাঠামো নির্মানের পর ১৯৮৭ সালে প্রথম উপজেলা লীগ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৪ বছররাবাহিক ভাবে এ্যাথলেটিক্স,ফুটবল,ক্রিকেটে আঞ্চলিক ফুটবল টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এরপর একযুগ বন্ধ থাকার পর আবারো ২০১২ সালে একটি টুর্ণামেন্ট। এরপর আবারো বন্ধ। এতে অনেক উদিয়মান খেলোয়াড়ই ঝড়ে যায়। সংগঠকরা এগিয়ে না আসায় মাঠটি গো-চারনভুমিতে পরিণত হয়ে জরাজির্ণ হয়। অফিস ভবনসহ সিমানা প্রচীর ধ্বসে রুগ্নতা ভর করে ক্রীড়াঙ্গনে। যা শুধু একটি নির্মান প্রকল্পের কারনে কালো মেঘ পুরোটাই কেটে যায়।
সরেজমিনে গত শুক্রবার দেখা যায়, বিশাল ষ্টেডিয়ামটির নয়নাভিরাম দৃশ্য। পরিচ্ছন্ন সবুজ ঘাসের চাদরের গালিচা বিছানো মাঠটিতে সকালে একদিকে ফুটবল আর অন্য দিকে ক্রিকেটাররা অনুশিলন করছে। এরমধ্যে চলছে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনের অনেকে খেলছে এ প্রতিযোগিতায়। মাঠের উন্নয়ন দেখে উচ্ছাসিত সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন ইভেন্টের ক্রীড়াবিদরা। এ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব বৈশাখী সংঘের অধিনায়ক ফেরদৌস হাসান বাপ্পি বলেন, বর্তমান সরকারের এ পদক্ষেপ আমাদেরকে আবারো মাঠে ফিরিয়েছে। বাংলাদেশ দলের সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার মুখতার সিদ্দিকি এ মাঠের দৃশ্যে ভুয়শি প্রসংশা করে বলেন, আমরা দির্ঘদিন ঢাকায় খেলেিেছ। তবে প্রাকটিসের জন্য নিজ এলাকায় এ রকম মাঠ ও ড্রেসিংরুম কখনো পাইনি। সরকার যেভাবে ক্রিড়াকে এগিয়ে নিচ্ছে অবশ্যই আমরা অচিরেই প্রত্যন্ত্য এলাকা হতে আবারো জাতীয় খেলোয়াড় পাব। তবে এর জন্য নিয়মিত লীগ প্রয়োজন।
সৈয়দপুর ক্রীড়া সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জোবায়দুর রহমান শাহিন বলেন, সবে মাত্র একটি ভলিবল টুর্ণামেন্ট শেষ করলাম। আগামিতে আঞ্চলিক ফুটবল টুর্ণামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টিও সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রুহুল আলম মাষ্টার বলেন, খেলাধুলায় মহৎসব ধরে রাখতে শুধু স্টেডিয়ামের মেরামত বা সংস্কার নয়। চাই নিয়মিত লীগ বা টুর্ণামেন্ট। না হলে অতল গহবরে মিশে যাবে উদিয়মানরা।
তাই ক্রীড়া সংগঠকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে নিয়মিত লীগ বা টুর্ণামেন্টের প্রত্যাশা করছেন স্থানিয় সচেতন মহল,ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়রা।