শীত এলেও চলন বিল অঞ্চলে আসেনি অতিথি পাখি

শীত এলেও চলন বিল অঞ্চলে আসেনি অতিথি পাখি

সাহেদ আলী ,সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : বিল,ঝিল ও দিঘীর মেলা উত্তর বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী জনপথ সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা,তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, চাটমোহরের বিস্তীর্ন এলাকা শীত এলেই মুখরিত হয়ে ঊঠতো হাজার হাজার অতিথি পাখির কলগুনঞ্জনে। ভিনদেশী পাখিরা এ সময় বদলে দিতো এ এলাকার চিরচেনা দৃশ্যপট। কিন্তু এ বছর শীতের পাখিরা আসেনি চলন বিল অঞ্চলে। শীত এলেও দেখা নেই শীতের পাখিদের। ঝাক বেধে উড়ে যাওয়া অতিথি পাখিদের বিচরন নেই বললেই চলে। যাওবা এসেছে অতীতের অন্যান্য বছর গুলোর তুলনায় এবার সংখ্যা নেহাতেই নগন্য ঃ- উল্লেখ্য যমুনা নদীর বিশাল এলাকায় ছোট বড় অসংখ্য বালু চর ছাড়াও জেলার বৃহত্তম দিঘী রায়গঞ্জ উপজেলার জয় সাগর ও তার আশে পাশে রয়েছে চব্বিশটিরও বেশী বিল ও দিঘী। এ গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জলাশয় উদয় দিঘী, রাম দিঘী ,অন্দিহার দিঘী, বেহুলার বিল, বারানির বিল, কাতলার বিল, কালিদহ সাগর ও নয়া পুকুর। উল্লাপাড়ার উপজেলার ধড়াইল বিল, কচিয়ার বিল, সিমলার বিল ঐতিহাসিক অনুখার দিঘীর প্রভুতি। এছাড়াও তাড়াশ উপজেলার প্রান্ত ছুয়ে সুদুর চাটমোহর ও নাটর এলাকা পর্যন্ত বিস্তর চলন বিল পাখিচরন ক্ষেত্র হিসেবে সুদুর অতীত থেকেই সমৃদ্ধ। পরবাসী বিহঙ্গকুল প্রবল তুষার পাত ও শৈত্য প্রবাহ থেকে নিজেদের ও বংশ রক্ষার তাগিদে তুলনা মুলক ভাবে কম শীতের দেশে খাল, বিল, হাওর, বাড়ও সমৃদ্ধ এই বাংলাদেশে আসে। সুদুর সাইবেরিয়া উত্তর চীন তিব্বত, উত্তর হিমাচল প্রদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল পথ পেড়িয়ে শুধু ডানার উপর ভর করে ঝাকে ঝাকে এ সব অতিথি পাখিরা এ দেশে এসে থাকে। এক টানা পথ চলার ক্লান্তিতে তারা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও প্রচুর খাবার সমৃদ্ধ জলাশয়গুলোতে বিচরন করে তারা আবার সঞ্জবতা ফিরে পেতো। এ সময় অতিথি পাখিদের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যেত উল্লেখিত এলাকার গ্রাম বাসিদের। এক সময় পাখিদের উত্যক্ত করার কেউ ছিল না। ্কুয়াশা ¯œাত সকালের সোনালী রৌদ্্ের সূর্য স্লান সেরে নিয়ে পাখির দল নেমে পড়তো জলাশয়ে ছোট ছোট শামুক, ঘাস, শষ্যদানা, আর পোকা মাকড়ের সন্ধানে। আগত এ সব অতিথি পাখির মধ্যে হাঁস প্রজাতির বালি হাঁস, পিয়ং, সরিয়া ও চোখা উল্লেখযোগ্য। যমুনার চরে চখা চখি রোদ পোহাত তখন মনে হতো যেন রাজ হাঁসের দল কোথা থেকে ভেসে এসে বিশ্রাম নিচ্ছে। অন্যান্য পাখিদের মধ্যে জাজাবিয়া, গঙ্গা, কবুতর, গাংচিল, মানিকজোর, রাত চোরা, সবুজ পাপিট, বিলেতি শালিক দেখা যেতো। এ সব ভিনদেশী অতিথি পাখিদের সঙ্গে মিলে মিশে থাকতো আমাদের দেশীও পাখি। এ গুলোর মধ্যে কানাবগ, পানকৌড়, জল কবুতর, শামকালী, ডাহুকো, মাছরাঙ্গা ইত্যাদী। পরবাসী বিহঙ্গকুলের সঙ্গে দেশীয় পাখিদের মিলন অভিশার যেন স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরী করত জলোশয় গুলোতে। পাখি প্রকৃতির এক বিশেষ উপহার এ সব পাখি প্রকৃতির টানে ছুটে আসে আবার প্রকৃতির টানেই ছুটে যায় নিজ গন্তব্যে। বিগত ৭০/৮০ দশকে গোড়ার দিকে চলনবিল অঞ্চলে লক্ষ্য লক্ষ্য পাখি উপস্থিতিতে ছিল বলে স্থানীয় প্রবীন এবং পাখি বিশেজ্ঞর সূত্র থেকে জানা যায়। গত বছরেও চলন বিল এলাকায় অসংখ্য প্রজাতির পাখি দেখা গেছে। তবে এ বছর এর সংখ্যা পূর্বের তুলনায় নিতান্তই নগন্য। বিভিন্ন প্রতিকুলতার মধ্যেও মাঝে মধ্যে দু-একটি পাখির ঝাক কখনো চোখে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় আইনে অতিথি পাখি শিকার নিষিদ্ধ থাকলেও কিছু কিছু বেপরোয়া শিকারীদের দৌরত্ম্যে পাখিদের নিরাপত্তা, চরঅঞ্চলে ঘর বাড়ী তৈরী করা, নির্বিচারে ঝোপ ঝাড় উজাড় করা বিভিন্ন প্রকার জলজ আগাছা পরিষ্কার করে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে মাছ চাষ করা ও ইরি ধানে কীটনাশক প্রয়োগ করে পাখিদের খাদ্য কীটপতঙ্গ বিনষ্ট করা ইত্যাদী। কারন গুলো অতিথি পাখি চরন ক্ষেত্রে অন্তরয় হিসেবে উল্লেখ্য করেছেন বিশেজ্ঞরা তাদের মতে অতিথি পাখি আগমন ধারা অব্যাহত রাখতে হলে সরকারী প্রচেষ্টার পাশাপশি চলন বিল এলাকা জনসাধারনকেও গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখতে হবে। ঝোপ ঝাড় সৃষ্টির মাধ্যমে পাখি প্রজননের সহায়ক পরিবেশ ও জলাশয় গুলোতে যতেষ্ঠ খাদ্য মজুর গড়ে তুলতে হবে। পাখি শুন্য জলাশয় গুলোতে সৃষ্টি করতে হবে কৃত্রিম নাব্যতা। পাখি চারন ক্ষেত্রের আশেপাশে বাড়ী ঘর তৈরী করতে দেওয়া যাবে না। উল্লেখিত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করলে পরবাসী এ সব অতিথি পাখিদের আগমন পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।