সিরাজগঞ্জে কাপড়ের পাইকারি বাজারে মন্দা কোটি টাকার গ্রে কাপড় অবিক্রিত

সিরাজগঞ্জে কাপড়ের পাইকারি বাজারে মন্দা কোটি টাকার গ্রে কাপড় অবিক্রিত

 নিজস্ব প্রতিবেদক : সিরাজগঞ্জে কাপড়ের পাইকারি বাজারে ধ্বস নেমেছে। বাজারে কাপড়ের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় কারখানার মালিকরা উৎপাদিত লুঙ্গী ও গ্রে কাপড় বিক্রি করতে পারছে না। উৎপাদিত কাপড় জমতে জমতে মালিকদের গুদাম ভর্তি হয়ে গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ছোট কারখানা মালিকের গুদাম কাপড়ের মজুদ উপচে পড়ার মতো হযেছে। পাইকারি ক্রেতারা কাপড় ক্রয় করতে হাটে আসছেন না। শত শত পাওয়ারলুম কারখানা মালিক উৎপাদিত কোটি কোটি টাকার মজুদ কাপড় নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এ অবস্থায় পাওয়ারলুম মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। গত প্রায় এক মাস তাঁত প্রধান এলাকা সরেজমিন ঘুরে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সিরাগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া,বেলকুচি, উপজেলার তামাই,রান্ধুনীবাড়ী,সুবর্ণসারা, শাহপুর, দেলুয়া, চালা, জিধুরী, মুকুন্দগাঁতী, চন্দনগাঁতী, বানিয়াগাঁতী, শেরনগর, ক্ষিদ্রমাটিয়া, কামারপাড়া, বওড়া, মবুপুর, কল্যাণপুর, দৌলতপুর, ধুকুরিয়াবেড়া, সাতলাঠি, খুকনী, রূপনাই, আটারদাগ, গোপালপুর, গোপিনাথপুর, শিবপুর,খুকনী, এনায়েতপুর, বেতিল,এলাকাসমূহে কমবেশি ১৫ সহ¯্রাধিক পাওয়ারলুম কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ২০ হাজার মেশিন রয়েছে। প্রায় এক লাখ ২০ হাজার শ্রমিক এসব কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কারখানা মালিকরা জানান, কয়েক মাস পূর্বে এসব কারখানা এলাকায় ছিলো জমজমাট পরিবেশ। কিন্তু কৃষকের উৎপাদিত ধান ও গমে লোকসান হয়েছে। কৃষিনির্ভর গ্রামীন অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করছে। ফলে দেশের বাজারে কাপড় বিক্রি একেবারেই কমে গেছে। সিরাগঞ্জের শাহজাদপুর, এনায়েতপুর,বেলকুচি ও করোটিয়া প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাপড় বেচাকেনা হতো। যা বর্তমানে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে ভারতে প্রায় ১০ কোটি টাকার লুঙ্গি ও গ্রে কাপড় রফতানী হতো। ভারতের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় কাপড়ের রয়তানী ও কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে গ্রে কাপড়ের দাম। এই কাপড়ের দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমে গেছে। এক থান গ্রে কাপড় উৎপাদন ব্যয় হয় ৭০০ টাকা। বর্তমানে এক থান কাপড় বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কিম্বা তার চেয়ে কম দামে। কাপড়ের বৈদেশিক বাজার সংকুচিত হয়ে পড়ায় গার্মেন্টস সেক্টরে সৃষ্ট মন্দার প্রভাব পড়েছে সিরাজগঞ্জের পাওয়ারলুম সেক্টরে। গত ০২ মাসে উৎপাদিত কাপড় বিক্রি করতে না পেরে কারখানা মালিকরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। ব্যাংক থেকে ঋণ তুলে শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ছোট ছোট কারখানার মালিকরা মহ বিপদে পড়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। এ অবস্থায় পাওয়ারলুম মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেক ও উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বর্তমান মনন্দাভাব অব্যাহত থাকলে হ্যান্ডলুম ও পাওয়ারলুম সেক্টরে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। এতে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।