নন্দীগ্রামে ১৫ মন আলু বিক্রি করে কিনতে হচ্ছে ১ কেজি গরুর মাংস

নন্দীগ্রামে ১৫ মন আলু বিক্রি করে কিনতে হচ্ছে ১ কেজি গরুর মাংস

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) থেকে মোঃ ফজলুর রহমান : বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১৫ মন আলু বিক্রয় করে কিনতে হচ্ছে কেজি গরুর মাংস। এতে করে কোল্ড ষ্টোরে রাখা আলু চাষীরা বিরাট লোকসানের মুখে পড়েছে। ফলে এবার চাষীরা হারিয়েছে আলু চাষের আগ্রহ। গত বছর আলুর বাম্পার ফলন হলেও বৃষ্টিতে আলু ক্রয় করার ব্যাপারী না থাকায় অনেক কৃষক হাজার হাজার বস্তা আলু হিমাগারে রাখে। কিন্তু প্রায় এক বছর পার হতে চললেও আলুর দাম না থাকায় সেসব কৃষক এখন পথে বসতে শুরু করেছে। সারাদেশে আলুর পর্যাপ্ত উৎপাদন ও চাহিদা না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যাবসায়ীরা। আবার যেসব কৃষক অতিরিক্ত লাভের আশায় আলু হিমাগারে রেখেছিল এখন তাদের মাঝে চলছে হাহাকার। হিমাগারে আলু রাখা রিধইল গ্রামের কৃষক মামুন হোসেন কষ্টের সাথে বলেন, গত বছর ৫ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়ে ছিলাম। আলু তুলে কিছুটা বিক্রি করলেও অনেক আশা করে অতিরিক্ত লাভের আশায় ৬০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছিলাম এখন ৮৪ কেজি ওজনের আলুর বস্তা ব্যাপারীরা দাম বলছে ৪০০ টাকা । হিমাগার ভাড়া ও পরিবহন ভাড়া রেখে প্রতি ৮৪ কেজি ওজনের বস্তা প্রতি পাচ্ছি ৫০ টাকা। অথচ আলু তুলেই তখন বিক্রি করেছিলাম ৯০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ৮৫০ টাকা। সে হিসেবে এখন দেখা যাচ্ছে হিমাগার ভাড়া , বস্তা কেনা ও পরিবহন খরচ সব মিলিয়ে প্রতি বস্তায় খরচ পড়েছে ১২শ৫০ টাকা। আর এখন দাম বলছে ৪০০ টাকা ফলে প্রতি বস্তায় লোকশান গুনতে হচ্ছে ৮৫০ টাকা। অন্যদিকে বিরপলী গ্রামের কৃষক আবু মুসা জানান, আমি গত বছর ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। আলু বিক্রয় না করে সমস্ত আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। আলু বিক্রয় করতে না পারায় এখন আমি পথে বসেছি। কাথম গ্রামের কৃষক আজাদ জানান, আমি জামাদার হিমাগারে ৮ বস্তা আলু রেখেছিলাম দাম কম হওয়ায় আলু বিক্রয় করে সব খরচ বাদে ৩৫০ টাকা পেয়েছি। এ টাকায় কি করব সব আশা তো শেষ তাই কিছু ভেবে না পেয়ে ছেলে মেয়েদের জন্য কেজি গরুর মাংস কিনে নিয়ে যাচ্ছি। অন্যদিকে আলুর ব্যাপারী জাহিদুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, গত বছর পর্যাপ্ত আলু উৎপাদন হয়েছে। আলু বাহিরে রপ্তানী না করায় কৃষকরা আলু বিক্রয় করতে পারেনি ফলে তারা হিমাগারে রাখে। দেশের প্রায় সব হিমাগারে প্রচুর আলু থাকায় আলুর দাম নি¤œমুখী। এ বছরে আলুর দাম বাড়ার আর কোন সম্ভাবনা নেই।