মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

বিজয় দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের তরুণ-তরুণী, পুরুষ ও নারীর অংশগ্রহণে কাপ্তাই হ্রদের জলে নৌকার পালে বিজয়ের উল্লাস করে রাঙামাটিবাসী।
বিকালে পৌর ট্রাক টার্মিনালে রাঙামাটি রিজিয়ন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে একক ও ১৫ জন বিশিষ্ট ৪টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি দলের অংশগ্রহণের কাপ্তাই হ্রদের দুই ধারে হাজারো জনতা উপভোগ করে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খেলা।
এসময় সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু। এতো উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার গোলাম ফারুক এসইউপি, পিএসসি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, সদর জোন কমান্ডার রেদুয়ানুল ইসলাম এস ইউ পি. পি এস সি, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী।
একক অংশগ্রহণে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাম্পান প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেন মোহাম্মদ জামাল, ২য় স্থান অধিকার করেন আব্দুল মান্নান, ৩য় স্থান অধিকার করেন দিদারুল আলম। ১৫ জন সদস্য বিশিষ্ট মহিলাদের দলগত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেন রচনা ত্রিপুরার দল, ২য় স্থান অধিকার করেন বিশাখা চাকমার দল, ৩য় স্থান অধিকার করেন সভামতি চাকমার দল। অন্যদিকে ১৫জন বিশিষ্ট পুরুষদের দলগত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেন শান্তিময় চাকমার দল, ২য় স্থান অধিকার করেন যুবরাজ ত্রিপুরার দল, ৩য় স্থান অধিকার করেন শিরোমনি ত্রিপুরার দল। এছাড়া প্রথম বারের মত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ১৫ জন বিশিষ্ট পুরুষ আন্তঃ জোন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেন রাঙামাটি সদর জোন, ২য় স্থান অধিকার করেন জুরাছড়ি জোন এবং ৩য় স্থান অধিকার করেন নানিয়ারচর জোন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, এমন একটি পরিবেশ বিজয়ের উল্লাসকে আরো বেশি আনন্দময় করে তুলেছে। ঐতিহ্যবাহি এই গ্রাম বাংলার খেলা কাপ্তাই হ্রদের মানুষকে মনোমুগ্ধ করে দিয়েছে।
‘পাহাড়ের মানুষ ভালোবাসায় বেঁচে আছে’ এমন মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে যারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে তারা কখনো তাদের আশা পূর্ণ করতে পারবে না।
রাঙামাটি রিজিয়নের কমান্ডার গোলাম ফারুক এসইউপি, পিএসসি বলেন, রাঙামাটির মানুষ রাঙা, তাদের মনও রাঙা। তাদেরকে আমি ভীষণ ভালোবাসি। সকল জাতি, সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে যেভাবে ভালোবাসাময় পরিবেশে বেঁচে আছে তা অন্য কোথাও দেখা যায় না।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, এ অনুষ্ঠানে রাঙামাটির সকল সম্প্রদায়, জাতি, গোষ্ঠি ও ধর্মের লোকদের সমাগম হয়েছে। এতে একটি ভ্রাতৃত্ব বোধ দেখা যাচ্ছে। আশা করবো আগামীতে এমন সম্পর্ক বজায় থাকবে।
নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক হাজী মুছা মাতব্বর বলেন, এ প্রতিযোগিতা রাঙমাটিতে বহু বছর আগের থেকে হয়ে আসছে। যারা এ কাজ শুরু করেছিলো তারা প্রায় বর্তমানে বেঁচে নেয়। কিন্তু আমরা আশা করবো তাদের রেখে যাওয়া এ স্মৃতি ধরে রাখতে পারবো।
বিজয়ীদের মধ্যে থেকে সাম্পানে বিজয়ী ও রানার্স আপদের মাঝে ৬ হাজার টাকা, ৪ হাজার টাকা ও ২ হাজার টাকা ক্রমান্বয়ে প্রদান করা হয়। নারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচ প্রতিয়োগিতায় বিজয়ী ও রানার্স আপদের মাঝে ২০ হাজার টাকা, ১৭ হাজার টাকা এবং ১৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। পুরুষদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচ প্রতিয়োগিতায় বিজয়ী ও রানার্স আপদের মাঝে ৬০ হাজার টাকা, ৪০ হাজার টাকা এবং ২০ হাজার টাকা ক্রমান্বয়ে প্রদান করা হয়। এছাড়া আন্তঃ জোন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এবং রানার্স আপদের মাঝে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।