ময়মনসিংহ সওজের ৮০ কোটি টাকার টেন্ডার ভাগিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া ফাঁস

ময়মনসিংহ সওজের ৮০ কোটি টাকার টেন্ডার ভাগিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া ফাঁস

আব্দুল মান্নান পল্টন, ময়মনসিংহ ব্যুরো,
ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) প্রায় ৮০ কোটি টাকার টেন্ডার ভাগিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া ফাঁস হওয়ার পর ময়মনসিংহের সর্বত্রই শুরু হয়েছে তোলপাড়। অদৃশ্য নিয়মের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি ধোঁয়া তুলে ময়মনসিংহ-নেত্রকোণা সড়ক উন্নয়নের এ টেন্ডারের কার্যাদেশ র‌্যাব আরসি প্রাইভেট লিমিটেড, মেসার্স রিজভী কনস্ট্রাকশন ও রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামের (জয়েন্ট ভেনচার) নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার পাঁয়তারা করছে বলে বেশ কয়েকটি দায়িত্বশিল সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তাদের পছন্দের জয়েন্ট (ভেনচার) নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেয়ার লক্ষে তারা বাতিল করে দিয়েছে হেভিওয়েট আরো তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। এতে করে সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত গচ্ছা যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর ময়মনসিংহ-নেত্রকোণা-সুনামগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য একটি দরপত্র আহবান করে ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। এ কাজে ব্যয় ধরা হয় ৮০ কোটি ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ৯৯৯ টাকা। পরে র‌্যাব আরসি প্রাইভেট লিমিটেড, মেসার্স রিজভী কনস্ট্রাকশন ও রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামের (জয়েন্ট ভেনচার) নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৭৯ কোটি ৬০ লাখ ৭ হাজার ৫’শ টাকার দরপত্র জমা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়।
কিন্তু কনকর্ড প্রগতি কনষ্ট্রাকশন লিমিটেড ও মনিকা লিমিটেড (জয়েন্ট ভেনচার) ৭২ কোটি ২৩ লাখ ৮২ হাজার ২৯৯.২৬৭ টাকায় দরপত্র জমা দেয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, মেসার্স ভাওয়াল কনষ্ট্রাকশন, এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও তমা-এসইএল (জয়েন্ট ভেনচার) একই টাকার সর্বনি¤œ দরপত্র জমা দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, সর্বনি¤œ দরদাতা হয়েও দেশের এ তিনটি নামিদামি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অদৃশ্য নিয়ম ও খোঁড়া যুক্তিতে বাতিল করা হয়েছে। আর তাদের বাতিল করতে দশমিকের পর ৩ ঘরকে গণ্য না করে অযৌক্তিক এক নিয়ম তৈরি করা হয়েছে।
সর্বনি¤œ দরদাতা তমা-এসইএল (জয়েন্ট ভেনচার) প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কাওসার আহমেদ অভিযোগ করেন, সওজ কর্তৃপক্ষ আমাদের দেয়া দর বিবেচনা করেনি। তারা সর্বোচ্চ দর দেয়া কম যোগ্যতাসম্পন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ফলে সরকারের প্রায় ৬ কোটি ৮২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৬ টাকা অতিরিক্ত ক্ষতি হবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ দরপত্রে অংশগ্রহণকারী সর্বনি¤œ দরদাতা আরেকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অভিযোগ করে বলেন, আগে দরপত্রে
দশমিকের পর ৩ ঘরকে ধরা হতো। কিন্তু এবার এটি ধরা হয়নি। ফলে সর্বনি¤œ দরদাতা হয়েও ভৌতিক এক নিয়মে আমাদের বাতিল করা হয়েছে। তারা আমাদের তাদের দাবি করা নিয়মের কথা আগে জানায়নি। সম্পূর্ণ একতরফাভাবে সওজ কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘টেন্ডার সাবমিশন হয়েছে। এখনো কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকেই কাজ দেয়া হয়নি। আমরা যাচাই-বাছাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এরপর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’
তবে সর্বোচ্চ দরদাতা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার গোপন প্রক্রিয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ইজিপি’র নিয়মের কারণেই আমরা দশমিকের পর ৩ ঘরকে বিবেচনা করিনি। এ সংক্রান্ত নিয়ম পিপিআরএ উল্লেখ আছে। ঠিকাদাররা দেখতে চাইলে দেখে যেতে পারেন।’