মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত চলনবিলাঞ্চল

মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত চলনবিলাঞ্চল

সাহেদ আলী,সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ পরপর বন্যা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে চলন বিলাঞ্চলের কৃষকরা আমন ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাপক ভাবে সরষে আবাদ করেছেন। শীতের তীব্রতার পাশাপাশি দিগন্ত জোড়া মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। দুর মাঠ প্রান্তরের দিকে তাকালে মনে হয় যেন হলুদের আগুন লেগেছে। তাই মাঠে মাঠে সরষে ফুলে হলুদের সমারোহ আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে চলনবিলাঞ্চল। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের পর মাঠ যেন হলুদে ছেয়ে গেছে। বাতাসে দোল খাওয়া হলুদ সরিষা ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন চলছে। সেই সাথে চলছে সরিষা ফুল থেকে মৌ-চাষীদের মধু আহরনের পালা। দেশের বিভিন্ন এলাকার মৌ-চাধীরা এখন চলনবিল এলাকায় ভীড় জমাচ্ছে। সরিষা মৌসুমকে সামনে রেখে তারা তাদের খামার নিয়ে এ এলাকায় অবস্থান করছে। সরিষা মৌসুমে তারা কেবল চলনবিল জনপদ থেকে টনকে টন মধু আহরন করে থাকে। বিসিক সহ বিভিন্ন বেরকারী সংস্থা থেকে আত্মকর্মসংস্থান মুলক প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এ পেশায় এসেছে। আহরিত এ মধু দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন দেশের বাইরেও রপ্তানী হচ্ছে বলে জানান সলঙ্গার হাটিপাড়া গ্রামের শ্রেষ্ঠ মৌ-খামারী আব্দুর রশিদ। চলন বিলের রায়গঞ্জ, তাড়াশ, সলঙ্গা, উল্লাপাড়া, সিংড়া, গুরদাসপুর, ভাঙ্গুড়া সহ ৯টি উপজেলার কৃষকরা এখন সরিষা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে। পোকামাকড় সহ বিভিন্ন রোগ বালাই এর আক্রমন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে তাদের কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে বাড়তি পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছে কৃষকগন। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন স্ব-স্ব এলাকার কৃষকদের এ বিষয়ে পরামর্শ ও সঠিক মতামত দিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। উল্লাপাড়ার হাটিকুরুল ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছাত্তার জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবারে সরিষা আবাদে এলাকার কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে পারবে। উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার খিজির হোসেন জানান, এ উপজেলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়। রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হক মন্ডল জানান, গত বছরের চেয়ে এবার কম জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এ বছর উপজেলার ১৫৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছর ৫ হাজার ৬ শত হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল। এবারে বন্যার পানি দেরিতে নেমে যাওযায় ৩ হাজার ২ শত হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনজু আলম জানান, গত বছর আবাদ হয়েছিল ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে এবার হয়েছে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ। ভাঙ্গুড়ার কৃষি কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিকে জানান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ হতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে পাশে আছে এবং সার্বক্ষণিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলে এ উপজেলায় সরিষা আবাদে কৃষকরা সাবলম্বী হবে। #