আব্দুছ ছাত্তারের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ -দুদকের তদন্ত দাবী

আব্দুছ ছাত্তারের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ -দুদকের তদন্ত দাবী

আব্দুল মান্নান পল্টন,ময়মনসিংহ ব্যুরো,
টাকা আত্মসাৎ মামলায় চাকুরী থেকে বহিস্কৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর সচিবালয়ের উপ-মহাব্যাবস্থাপক মোঃ আব্দুস ছাত্তারের বিরুদ্ধে সরকারি চাকুরী ও মোটা অঙ্কের লোন করে দেয়ার কথা বলে শত শত মানুষের কোটি কোটি টাকা আতœসাতসহ সিমাহীন দুর্নীতি,অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘুষ বানিজ্য আর প্রতারনার ফাঁদে ফেলে অসংখ্য মানুষের টাকা আতœসাৎ করে তিনি তার নামে- বেনামে দেশ বিদেশে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। অবৈধভাবে অর্জিত এসব সম্পদের দুদকের তদন্ত দাবী করেছেন এ ব্যাংক কর্মকর্তা কতৃক প্রতারিত অসংখ্য মানুষ।
উত্থানের ইতিহাসে রুপকথার গল্পকে হার মানিয়েছেন তিনি। চাকুরীতে যোগদানের পুর্বে ৮০’র দশকেও তার বসবাস ছিল ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক বাবার ছোট মাটির ঘরে। সেমময় অভাবের সংসারে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটে তার। ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ও অসম্ভব ভদ্র ছেলে আব্দুছ ছাত্তার ছিলেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষের পছন্দের কেন্দ্র বিন্দুতে।
সুত্রমতে বিয়ে করার বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকুরী হয় তার। স্ত্রীর কাঁধে ভর করে রকেট গতিতে ঘুরিযে নেন নিজের ভাগ্যের চাকা। এরপর আর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। প্রচন্ড অর্থের লোভে বেপরোয়া হয়ে পড়েন অজপাড়া গাঁয়ের সেই ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র আব্দুছ ছাত্রার। ১৯৯০ এর দিকে নিজ এলাকা ও আশপাশের উপজেলায় বসবাসরত শতাধিক লোকের কাছ থেকে চাকুরী দেয়ার নামে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। একেবারেই বদলে যান তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকে বড় পোষ্টে চাকুরী করার সুবাদে দেশীয় ও আন্তর্জাতীক মাফিয়া চক্রের সাথে নিবীড় সম্পর্ক গড়ে উঠে তার।
জনশ্রুতি রয়েছে তিনি তার স্ত্রী পুত্রসহ আতœীয়স্বজনের নামে- বেনামে ঢাকা,টাঙ্গাইল ব্যাংকক, মালয়এশিয়াসহ দেশ বিদেশে অসংখ্য বিলাশবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। স্ত্রী পুত্র ও নিজের জন্য একাধিক বিলাশ বহুল প্রাইভেটকার রয়েছে তার। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্রয় করেছেন অঢাল সম্পদ। মাত্র কয়েক বছরে আব্দুস ছাত্তারের এমন উত্থান বিস্মিত হয়েছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে তার নামে- বেনামে গড়ে তুলা পাহাড় সমান সম্পদের পরিমান হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেছে তার ঘনিষ্ট বেশ কয়েকটি সুত্র। বহুল সমালোচিত ভয়ঙ্কর প্রতারক আব্দুছ ছাত্তারের ভয়াল থাবায় নিঃস্থ হয়েছেন যারা।
ঢাকা মোহাম্মদ পুরের বাসীন্ধা ববী”র ৮ লাখ,গোপাল গঞ্জের আশিক ৩০ কোটি,ময়মনসিংহের গফরগাঁও খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা রহিমা খাতুনের ৩০লাখ,একই উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সাইফুল ইসলামের ৩০ লাখ, সালটিয়া ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের মনসুর আলীর সাড়ে ৩ লাখ, রাওনা ইউনিয়নের বাসীন্ধা নয়নের ৮ লাখ, সাইদুল ৮ লাখ, পাশ^বর্তী ত্রিশাল উপজেলার বাসীন্ধা সুমনের ৫ লাখ, ট্ঙ্গাাইলের মোয়াজ্জেম ৮ লাখ, চট্রগ্রাম কালাম ৬লাখ, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সম্প্রতি চাকুরী হতে অবসরে আসা তারই সহকর্মী দিনাজপুরের রায়হান চৌধুরীর ৩ লাখসহ এমন অসংখ্য মানুষের টাকা আতœসাত করেছেন বলে এ প্রতিবেধককে জানিয়েছেন তারা। শুধু তারাই নয় মোটা অঙ্কের লোন এবং অনেককে চাকুরী দেয়ার কথা বলে তাদেরমত এমন শত শত মানুষের টাকা আতœসাত করেছেন তিনি।
গফরগাঁওয়ের সাবেক দুই বারের এমপি ইনামুল হক জজ মিয়া জানান আব্দুছ ছাত্তার গত দুই মাস পুর্বে একাধিকবার আমাকে ফোন করে বলেছেন খায়রুল্লা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা রহিমা খাতুনের টাকা গুলি সে ফেরৎ দিয়ে দিবে। আমরা আপোষনামাও লিখে রেখেছি কিন্তু বর্তমানে আব্দুছ ছাত্তার টাকা দিয়ে মামলা আপোষ করবেনা বলে জানিয়েছেন। আব্দুছ ছাত্তারের গ্রামের বাড়ি গফরগাঁওয়ের রৌহা গ্রামে গিয়ে জানা যায় প্রতিদদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা ফেরৎ পেতে অসংখ্য মানুষ বাড়িতে এসে ভীড় করছে। টাকা ফেরৎ চাইতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পাওনাদার আব্দুছ ছাত্তার এবং তার পরিবার কতৃক লাঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছেন। সন্ত্রাসী কতৃক হামলার স্বীকার হয়েছেন। জীবনের নিরাপত্তা পশ্নে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেও নিরাপদে নেই বেশ কয়েকজন পাওনাদার। আন্তজার্তিক মাফিয়া চক্রের সদস্য ভয়ঙ্কর প্রতারক আব্দুছ ছাত্তারের সিন্ডিকেট পাওনাদারদের হত্যা করতে মরিয়া হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে। সাংবাদিকদেরকে ছাত্তারের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন না করতে প্রানণাশ বা মামলা টুকে দেয়ার হুমকি প্রদান করছেন তারই সহোদর ভাই।
আব্দুছ ছাত্তারের পাশের বাড়ির বাসীন্ধা অবঃ পুলিশের এসআই আলাউদ্দিন দারগা.শামছুল ইসলাম,বাগুয়া গ্রামের আবুল হোসেন মন্নাছসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন কষ্টি পাথরে যাচাই করা বিএনপি পরিবারে সদস্য আব্দুছ ছাত্তারের সিন্ডিক্যাডে ঢাকার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এলাকার দুই একজন সরকার দলীয় নেতাসহ তার সহোদররাও জড়িত রয়েছেন।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও খায়রুল্লাহ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা রহিমা খাতুন ও তার স্বামী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে ত্রিশ লক্ষ টাকা আতœসাৎ করেছেন আব্দুছ ছাত্তার। এ ঘটনায় শিক্ষিকা রহিমা আক্তার বাদী হয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সাত্তারসহ প্রতারক চক্রের ৬জনকে আসামী করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেফতারী পরোয়ানামুলে ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুছ ছাত্তারকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পেরণ করে ময়মনসিংহের কতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। শিক্ষক দম্পতির টাকা আতœসাৎ মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুছ ছাত্তারকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃপক্ষ।
মামলার বাদী শিক্ষিকা রহিমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন আব্দুছ ছাত্তার জেল হাজত থেকে জামিনে বের হয়ে এসে তার নামে উল্টো ল্যাবটপ চুরির মামলা টুকে দেন। ছাত্তারসহ তার সিন্ডিক্যাটের লোকজন মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।