নন্দীগ্রামে লোকশানের বোঝা মাথায় নিয়ে আলুর পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষী

নন্দীগ্রামে লোকশানের বোঝা মাথায় নিয়ে আলুর পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষী

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) থেকে মো: ফজলুর রহমান : বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন মাঠে লোকশানের বোঝা মাথায় নিয়ে আলুর পরিচর্যায় চাষীরা এখন ব্যস্ত দিন পার করছেন। এবছর প্রথম থেকে আলুর দাম না থাকায় অনেক টাকা লোকশানের সম্মুখীন হন আলু চাষীরা। বিশেষ করে যেসব চাষী আলু তুলে বিক্রি না করে হিমাগারে রেখেছিল পরে আলুর দাম না থাকায় অধিকাংশ কৃষক হিমাগার থেকে আলু উত্তলোন না করতে পারায় অনেক টাকা লোকশানের মুখে পড়ে। জানাযায়, এবার উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন মাঠে কৃষকেরা আলু চাষ করছেন। এবার কৃষকরা যে সকল জাতের আলু চাষ করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, কার্ডিনাল, এ্যাস্টোরিক্স, ডায়মন্ড, রুমানা , পাকড়ি। এবছর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ৪হাজার ৩শ ৫০ হেক্টর আলু চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। বছরের শেষের দিকে বৃষ্টি হওয়ার কারনে আলু জমি তৈরী করার জন্য নতুন করে শেচ দিতে হয়নি । বর্তমানে আলুর মাঝামাঝি সময় । এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় এখন পর্যন্ত আলুর রোগ বালাই নেই। উপজেলার দামগাড়া মাঠে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় হানিফ নামে এক যুবক আলু জমিতে ঔষধ স্প্রে করছে। কি স্প্রে করছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আলু গাছে যেন ছত্রাকের আক্রমন না হয় সে জন্য আগেই ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছি। এতে রোগ বালাই আসবে না আলুর গাছ ভালো হবে। আবার দোহার মাঠে গিয়ে দেখা যায় কৃষকরা কোদাল (কৃষি কাজ করার যন্ত্র) দিয়ে আলু গাছের দু পাশে মাটি দিচ্ছে। কেন এভাবে মাটি দিচ্ছে জানতে চাইলে তারা জানান, গাছের দু পাশে মাটি দিয়ে গাছ বেঁধে দিলে আলু বেশি ধরে ফলে ফলন ভালো হয়। চাকলমা গ্রামের আলু চাষী জামিল হোসেন জানান, গত বছর হিমাগারে আলু রেখে অনেক টাকা লোকশান হয়েছে। এবারও আলু চাষ করেছি গাছ ভালো হয়েছে দেখা যাক কি হয়। এ ব্যাপারে কৃষিকর্মকর্তা মোহা. মশিদুল হকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর আলু চাষ বেশী হয়েছে । এছাড়াও আবহাওয়া ভালো । রোগ বালাই না হলে এবছর ও আলুর বাম্পার ফলন হবে।