কুমিল্লায় শৈত্যপ্রবাহে গরম পোশাক বিক্রির ধুম

কুমিল্লায় শৈত্যপ্রবাহে গরম পোশাক বিক্রির ধুম

মো:রবিউল আলম”কুমিল্লা প্রতিনিধি”
গত কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব পড়েছেকুমিল্লায়ও। ফলে প্রচণ্ড শীতে কুমিল্লা জেলাজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষরা শীতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তারা রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। বুধবার কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে।এদিকে প্রচণ্ড শীতের প্রভাবে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ও সড়কের পাশে ফুটপাতে পুরনো গরম জামা কাপড় বিক্রি হচ্ছে হুলস্থূল ভাবে। স্বল্প টাকায় শীত নিবারণের এই বস্ত্র কিনতে প্রতিদিন ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন অসহায়, গরিব, ছিন্নমূল ও মধ্যম আয়ের মানুষরা।বুধবার কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ ও চকবাজার এলাকায় সরেজমিন ঘুরেদেখা গেছে, শীতকে উপলক্ষ করে প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী ফুটপাতে পুরাতন কাপড় বিক্রি করছেন।এদের মধ্যে একাধিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শীতের শুরু থেকে গত এক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত ব্যবসা চলছিল জিমিয়ে জিমিয়ে। তবে চলতি সপ্তাহ হতে বেড়েছে বিক্রি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে জমজমাট ভাবে। প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অসহায়, গরিব, ছিন্নমূল ও মধ্য আয়ের মানুষরা হচ্ছে এ বাজারের মূল ক্রেতা। তবে এসব শ্রেণির মানুষ ছাড়া অনেক বিত্তবানদেরও দেখা যায় ফুটপাতের এ বাজারের ক্রেতা হিসেবে।নগরীর ছাতিপট্টি এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, পুরনো পোশাক কমদামে বিক্রি হওয়ায় গরিব ও ছিন্নমূলদের মতো মানুষরা আজ শীত থেকে অনেকটা রক্ষা পাচ্ছে। অন্যথায় এ হাড় কাঁপানো শীতে এদের অধিকাংশ মানুষেরই খুব কষ্ট হত। কারণ বিত্তবানদের মতো নামি-দামি পোশাক তাদের ভাগ্যে জোটে না। তাই ফুটপাতই এদের একমাত্র ভরসা।তিনি আরো জানান, প্রতিটি জামা, প্যান্ট, কোট, কানটুপি, মাপলার ৩০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এসব জামাকাপড় শুধু গরিবরা কিনে বিষয়টি এমন না। অনেক স্বাবলম্বী পরিবারের সদস্যরাও ক্রয় করেন।এক ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বল্প আয় ও ছিন্নমূল মানুষদের জন্য ফুটপাতে দোকানিরা এই শীতে অনেকটা উষ্ণতার পরশ নিয়ে আসছে। কুলি-মুজুর থেকে শুরু করে মধ্যম শ্রেণির মানুষরা পর্যন্ত এখান থেকে নাম মাত্র মূল্যে শীত নিবারণের বস্ত্র ক্রয় করার সুযোগ পাচ্ছে।