ঝালকাঠির লোহার সেতুর বিভিন্ন অংশ চুরির ধুম

ঝালকাঠির লোহার সেতুর বিভিন্ন অংশ চুরির ধুম

কামরুল হাসান মুরাদ, ঝালকাঠি: ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরসহ অন্যান্য উপজেলায় সম্প্রতি লোহার সেতুর খাম্বা, পিলার, লোহার ধরনিসহ বিভিন্ন অংশ চুরির ধুম পড়েছে। গ্রামাঞ্চলের ছোট-বড় খালগুলোতে জনসাধারনের চলাচলের সার্থে এই লোহার সেতুগুলোর মূল কাঠামোতে ব্যবহৃত লোহার অংশগুলো চুরি হওয়ার কারণে সেতুগুলো মূল কাঠামো ভেঙে পড়ছে।
জানা যায়, মূলত যে সেতুগুলো লোকালয়ের বাইরে সেই সেতুগুলোতেই চুরি হচ্ছে বেশি। কাঠামো চুরি হওয়া লোহার কয়েকটি সেতু ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর জন্য মাদকাসক্তদের দায়ী করছেন স্থানীয়রা। মাদকের টাকা জোগার করতে তারা লোহার দ-গুলো চুরি করে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করছে।
সম্প্রতি উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের পিংড়ী গ্রামে ধাঁনসিড়ি নদীর উপর নির্মিত লোহার সেতুটি ভেঙে পড়ে। পর্যায়ক্রমে সেতুর ভিম ও এ্যাঙ্গেল চুরি হয়ে যাওয়ার ফলে ভারসাম্য হারিয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে পিংড়ি, বাড়ইবাড়ি, সাচিলাপুরসহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষে আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও উপজেলা প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, সেতুটি দিয়ে ৪ গ্রামের হাজারো মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করত। সম্প্রতি সেতুটির অধিকাংশ লোহার কাঠামো চুরি হয়ে যায়। ফলে গত শুক্রবার সেতুটি মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে। সেতুর চুরি হওয়া অংশগুলো উপজেলার বাঘড়ি হাটের একটি ভাঙারির দোকানে সনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া চোরকেও সনাক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন জানান, চুরির বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে পাহাড়া বসায়। গত শনিবার রাতে চুরি করার সময় স্থানীয়রা এক যুবককে ধাওয়া করলে সে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় এক প্রবাসীর মাদকাসক্ত ছেলেকে সনাক্ত করা হয় এবং তার নামে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে ওই যুবককে আটক বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
রাজাপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।