সাবেক ওসি মুনিরসহ ৩ পুলিশ ও এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে সোমন জারী

সাবেক ওসি মুনিরসহ ৩ পুলিশ ও এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে সোমন জারী

কামরুল হাসান মুরাদ, ঝালকাঠি: রাজাপুর থানার বিদায়ী ওসি মুনির উল গিয়াস ওরফে দিপু সহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তা ও ১ জন ডাক্তারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সোমন জারী করেছে ঝালকাঠি জেলা জজ আদালত। রাজাপুরের টিএন্ডটি সড়কের বাসিন্ধা কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেন আদনানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও অপচিকিৎসার অভিযোগে দায়েরকৃত ফৌজদারী রিভিশন (কেস নং-১৭২/১৭) মামলায় আগামী ১১মার্চ জেলা জজ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য এ সোমন জারী করেন। মামলায় বিদায়ী ওসি মুনির উল গিয়াস ওরফে দিপু, সাবেক এসআই নজরুল ইসলাম, এএসআই সঞ্জিবন বালা ও রাজাপুর স্বাস্থ্য কম্পেলেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেলকে আসামী করেছে। তাদের বিরুদ্ধে হেফাজতে নিবারন আইন ২০১৩ সনের ১৫ (১) ধারা, দঃবিঃ ৩৪২, ৩২৫, ৩০৭, ১০৯, ৫০০ ও ৫০০ (।।) ধারায় অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে।
নির্যাতিত কলেজ ছাত্র বাদী আদনানের আবেদনে উল্লেখ করেন, ৭ডিসেম্বর রাত ১১টায় বাদী ও ১নং স্বাক্ষীকে বাসা থেকে সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় ডেকে রাজাপুর থানায় এনে ১নং আসামী ওসি মুনির বাদী কলেজ ছাত্র বাদী আদনানকে চোর অভিহিত করে ও রাজাপুর শহরের বিএনপি সমর্থক শিক্ষক ওলিউর রহমান অলির চুরির দায় চাপায়। বাদী আদনান তার কথার প্রতিবাদ করলে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ১নং স্বাক্ষীকে থানা থেকে বের করে দিয়ে ১নং ও ২নং আসামী তাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার ন্যায় লাঠি পেটা, মুখে গামছা বেধে পানি ঢালা ও কারেন্ট সক দেয়াসহ বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করে।
এতে সে অচেতন হয়ে পরলে রাত ১.৫০ মিঃ সময় ৩নং আসামীকে দিয়ে রাজাপুর স্বাস্থ্য কম্পেলেক্সে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ আজম বাদীকে আশংকাজনক দেখে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়ায় ৩নং আসামী ফোন করে ১নং আসামীকে জানালে সে তড়িগড়ি ৪নং আসামীকে সাথে নিয়ে সেখানে উপস্থি হয়। আসামীরা পরাষ্পর যোগসাযসে অসুস্থ বাদীকে রাজাপুর হাসপাতালেই চিকিৎসা কারানোর পাশাপাশি কৌশলে হাসপাতাল রেজিষ্ট্রারে প্রকৃত তথ্য উল্লেখ না করে ‘হার্টের রোগী’ সাজিয়ে গোপন চিকিৎসা দেয় ও পরের দিন সকালে রাজাপুর থানায় তদন্তাধীন মামলার (নং-৫ তাং-০৭.১২.২০১৬ দঃবিঃ ৪৫৪/৩৮০) সন্দিগ্ধ আসামী মর্মে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করেন।
এ ব্যাপারে বাদীর আইনজীবী বলেন, এ ঘটনায় ইমরান হোসেন আদনান বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হেফাজতে নিবারন আইন ২০১৩ সনের ১৫ (১) ধারায় বিচার চেয়ে এমপি মামলা দায়ের করলে আদালতের বিচারক উল্লেখিত আইনে প্রতিবিধান না করে ‘দঃবিঃ ৩২৫ ধারার অভিযোগের সত্যতা নেই’ মর্মে অভিহিত করে মামলাটি খারিজ করে দেন। এঅবস্থায় ৩৯ বছর সৌদিআরব চাকুরির পর ২০১৫সালে দেশে ফিরে মারা যাওয়া মরহুম আলহাজ্ব শাহজাহান আলীর স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান ও একজন নির্দোষ-নিরপরাধ কলেজ ছাত্র হিসাবে বাদী ইমরান হোসেন আদনান আইনগত বিচারের আশায় এ মামলা দায়ের করলেও বিচারিক আদালতে ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়ে উচ্চ আদালতে এই রিভিশন মামলা দায়ের করেন। যদি আত্র আদালতেও ন্যায় বিচার না পায় তবে মহামান্য হাইকোর্টে বিচারের আবেদন জানাবের বলে বাদী ও তার আইনজীবী জানান।