পা ধোয়া পানিপান করানোর অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে !

পা ধোয়া পানিপান করানোর অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে !

কামরুল হাসান মুরাদ, ঝালকাঠিঃ 

ঝালকাঠিতে শিশু ছাত্রকে শিক্ষার্থীদের পা ধুঁয়ে পানি খাওয়ানোর নির্দেশদাতা এক মাদ্রাসার শিক্ষককের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার ভিকটিম নির্যাতিত শিশু শিক্ষার্থী মোঃ নাছিরুল্লাহ (৮) এর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝালকাঠি থানার উপপরিদর্শক আবু হানিফের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩১ জানুয়ারী বুধবার বিকাল ৩টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক এইচএম কবির হোসেন শিশু শিক্ষার্থী মোঃ নাছিরুল্লাহর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার শিশুটির মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে তার শিশু পুত্র নির্যাতনের অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিকনা দ্বীনিয়া মহিবুল্লাহ মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার গ্রেফতারকৃত শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে পুলিশ আদালতে সোপর্দ করলে তার জামিন নামঞ্জুর করে ঝালকাঠি কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আবু হানিফ জানায়, গত ২৮ জানুয়ারী ঝালকাঠির শহরতলির বিকনা দ্বীনিয়া মহিবুল্লাহ মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রদের গণিত শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান ১ থেকে ৫০ পর্যন্ত লিখতে বললে। উপস্থিত শিশুদের অনেকে লিখতে পারলেও শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার মো. রুহুল আমিনের ছেলে নাছিরুল্লাহ ও একই শ্রেনীর যুবায়েরসহ বেশ কয়েকজন লিখতে পারেনি। পরে যারা লিখতে পেরেছে তাদের ‘পা ধোঁয়া পানি’ খাওয়ার নির্দেশ দিলে লিখতে না পারা শিক্ষার্থী নাছিরুল্লাহ ও যুবায়েরসহ কয়েকজনকে পা ধোয়া পানি পান করতে বাধ্য করে শিক্ষক মনিরুজ্জামান।এঘটনার পর শিশু নাছিরুল্লাহ মাদ্রাসা ছুটির পর বাড়ী ফিরে অসুস্থ হয়ে পরে। এ বিষয়ে শিশুটির মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে তার শিশু পুত্র নির্যাতনের দায়ে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিকনা এলাকার মৃত. আনোয়ার হোসেনের পুত্র মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধেআদালত চত্বরে উপস্থিত মামলার বাদি ও শিশুটির মা সাহিদা বেগম জানায়, ঘটনার দিন বাড়ী ফেরার পর তাকে কিছু না বললেও পুত্র নাছিরুল্লাহ ঘন ঘন বামরুমে যেতে শুরু করে। এ অবস্থায় পরের দিন রবিবারও শিশু পুত্রে পতলা পায়খানা কমার কোন লক্ষন না দেখে পরের দিন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা করালে ডাক্তার ওষুধ ও স্যালাইন দেয়। এতে কিছুটা সুস্থ হলে তিনি উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু পুত্রকে নির্যাতনের ঘটনায় শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি থানায় অভিযোগ করেন।এ ব্যাপারে মাদ্রসার প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ বলেন, ঘটনার দিন মাদ্রসা বন্ধ ছিল। তাই আমরা তাৎক্ষনিক কিছু জানতে না পারলেও পরবর্তীতে ঘটনা জানতে পেরে মঙ্গলবার রাতে তারা ফিরে আসেন। তারা একই শ্রেনীর অপর শিশু শিক্ষার্থী যুবায়েরের বাড়ীতে গিয়ে বিষয়টি খোজ খবর করি। তার কাছ থেকে প্রকৃত কি ঘটেছে জানার পর আমরা বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে জানাই। এ ব্যাপারে কমিটির সাথে আলোচনা ও সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার হওয়া শিক্ষক মনিরুজ্জামানকে বুধবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে।