সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকদের সিলেট শিক্ষা সফর

সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকদের সিলেট শিক্ষা সফর

সাহেদ আলী , সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে সিলেট-মাধবকুন্ড শিক্ষা সফর-২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ দিনের এই শিক্ষা সফর রবিবার সকালে শেষ হয়। সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামের মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বৃহঃবার বাদ মাগরিব শিক্ষা সফর স্পট সিলেট-মাধবকুন্ড’র উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাস যোগে যাত্রা শুরু হয়। ওলিয়ে কামেল, শাহ সুফী, পীর দরবেশ ও অসংখ্য সাধক যেখানে ঘুমিয়ে আছে সেই পুন্যভুমি সিলেটে পৌছে ফজরের নামাজ আদায় করত: প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর মাজার শরীফ জিয়ারত করে সুফী সাধক পীর হযরত শাহ পরান (রহঃ) এর মাজারে দোয়া খায়ের হয়। এরপর পূর্ব নির্ধারিত বুকিং হোটেল আরমান এ গিয়ে মাল ছামানা রাখা হয়। সিলেটের মাজার রোডে অবস্থিত হোটেল আরমান এর রুমগুলো ছিল ছিমছাম। খাট, আলনা, ড্রেসিং টেবিল, টিভি, ফ্যান, রুম স্প্রে, লাইট সহ এটাস বাথরুম। বাথরুমে সাবান, শ্যাম্পু, টয়লেট পেপার, দাঁতের মাজন সবই যেন ছিল টিপটপ। এরপর সকালের নাস্তা সেরে ৬০ মাইল দুরে ভ্রমন স্পট জাফলং যাত্রা শুরু হয়। যেতে যেতে দেখলাম রাস্তার দু’পাশের দৃশ্য। যতই এগুতে থাকি ততই যেন প্রকৃতির অপরুপ লীলা পাহাড় যেন কাছে মনে হয়। জাফলং পৌছে জুম্মার নামাজ শেষে বিভিন্ন স্পট ঘুরে বেড়ানো হয়। প্রকৃতির অপরুপ নিদর্শন চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা এই সোনার বাংলাদেশ। আর কয়েক কদম গেলেই দৃষ্টি নন্দন ভারত এর সিমানা সুবিশাল পাহাড়। বাংলাদেশ-ভারত অপূর্ব পাহাড়ে কিভাবে বিভক্ত হয়েছে সত্যিই অবাক লাগার মত। পাহাড়ের কোল ঘেষে ভারত বাসিন্দাদের ছোট ছোট ঘর আর বিএসএফ’র কড়া নজর দারী। হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসুদের সাথে পানিশুন্য গোয়াইন ঘাট নদীতে হালকা পানির মধ্যে ছোট ছোট পাথরের উপর ফটো সেশন সহ বিনোদন করা হয়। ডিঙি নৌকায় নদী পার হয়ে অপাড়ে যেতে লাগলেই রাইফেল কাধে এক বিএসএফ বলে উঠল ‘এধার নেহী আয়েগা’। জাফলং থেকে ফেরার পথে জৈন্তাপুর, হরিপুরের টিলা ও পাহাড়ের উপর উঠে ছোট ছোট গর্তে দিবারাত্রি দাউ দাউ করে গ্যাসের আগুন জ্বলার দৃশ্য দেখে কে না বিধাতার প্রশংসা করে ? সেখানেও গিয়ে শাহ সুফী বুড়া বাবার মাজার জিয়ারত হয়। সফর সঙ্গী সাংবাদিক আনিছুর রহমানের ……… আঃ করিম সলঙ্গার ছেলে সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়য়ে চাকরিরত। সে তার নিজ এলাকার সাংবাদিক বড় ভাইদের খবর পেয়ে আমন্ত্রন জানায় তার বাসায় রাতের ডিনার করার জন্য। খানা পিনা শেষে রাতে সিলেটে চলমান আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা সহ শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘোরা হয়। পরদিন যাত্রা শুরু হয় মৌলভী বাজারের মাধবকুন্ড ইকো পার্ক ও জলপ্রপাত দেখার ইচ্ছায়। ড্রাইভার মাসুদ ভাই গাড়ী ছাড়লেন ছোট ছোট টিলা আর পাহাড়, সাথে চা বাগান দেখতে দেখতে ১টার পৌছে গেলাম কুলাউড়া উপজেলার মাধবকুন্ড ইকো পার্কে। পার্কে গিয়ে ম্যানেজারকে সবাই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গেট পাশের অনুমতি চাইলে উনি স্ব সম্মানে গেট দারোয়ানকে বলে দিলেন সাংবাদিকদের প্রবেশের জন্য। পার্কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভিতরে নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মন জুড়ে গেল। প্রকৃতির অপরুপ নিদর্শন শত শত ফুট উপর থেকে পাথর চুয়ে ঝর্নার পানি পড়ার দৃশ্য কি যে মজার যাহা বাস্তবে না দেখলে বোধগম্য নয়। দুপুরের খাবার শেষে মাধবকুন্ড পার্ক এলাকায় বসানো মেলায় কেউ বা সোহাগ বশত : আবার কেউ বা স্ত্রী সন্তানদের অনুরোধে সাধ্যমত পোষাক ও জিনিষ পত্র কেনা হলো। এরপর রওনা হয়ে শ্রীমঙ্গল চা বাগান দেখলাম। কি মনোহর। কি অপরুপ দৃশ্য। রাতে ফেরার পথে গাজীপুর চৌরাস্তায় রিমিঝিমি হোটেলে ভ্রমনের শেষ খাবার খাওয়া হয়। এক টানা ভ্রমনে শরীর মন ক্লান্ত। তবুও আলাপ চারিতায় সময় কাটছিল। সারা রাত আধো নিন্দ্রা, আধো জাগরনের মধ্য দিয়ে কাটার পর সকাল বেলা এসে সবাই বাড়ী পৌছালাম। সলঙ্গা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শংকর কুমার রায়, সাধারন সম্পাদক সাহেদ আলীর অক্লান্ত পরিশ্রম, ইচ্ছা, সাধনা ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও গতানুগতিক ধারা বজায় রাখার জন্য অন্যান্য সাংবাদিকদের সমষ্টিগত সহযোগীতাই এবারের সিলেট শিক্ষা সফর। সময়ের ব্যবধানে সব কিছুই বিলীন হয়ে যাবে। কিন্তু প্রকৃতির অপরুপ দৃশ্য, চমকপ্রদ সেই জাফলং-মাধবকুন্ড’র কথা মনের মধ্যে জমা থাকবে।