তাড়াশে আশ্রায়ন মানুষের আর্তনাদ ‘‘অভাব আর কষ্টে দিশেহারা’’

তাড়াশে আশ্রায়ন মানুষের আর্তনাদ ‘‘অভাব আর কষ্টে দিশেহারা’’

মহসিন আলী,তাড়াশ: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আশ্রায়নে বসবাস রত মানুষের আর্তনাদে এলাকাবাসী দিশেহারা । তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মাগুড়া ও বারুহাস ইউনিয়নে বস্তুল সরকারী অর্থায়নে আশ্রয়ণ প্রকল্প স্থাপিত হয় । সরকার ভুমিহীন,অভাব অনটনে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের একটু শান্তিতে বসবাস করার জন্য ১৯৯৮ ও ২০১১ সালে আশ্রায়ন প্রকল্প তৈরী করেন। মাগুড়া মুকন্দে দুটি আশ্রায়নে ১’শ ৮০টি পরিবার ও বস্তুল ৩টি আশ্রায়নে ২’শ পরিবার বসবাস করে। প্রতিটি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ,টিউবয়েল ও গণসৌচাগারের ব্যবস্থা সহ সকল সুবিধা দেওয়া থাকলেও এই সুবিধা গুলো বর্তমান না থাকায় এমন নাজেহাল অবস্থা হয়েছে যে বসবাসকারীরা পাচ্ছেনা নিরাপদ পানি,পাচ্ছেনা স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা,পাচ্ছেনা সরকারী কোন সহযোগীতা। আবার কেহ কেহ বরাদ্ধকৃত ঘর ছেড়ে চলে গেছে অন্যত্র।
সরজমিনে আশ্রায়ন প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়,মাগুড়াতে ১’শত ৮০ পরিবারের মধ্যে বসবাস করে ৭০টি পরিবার এবং বস্তুল ২’শত পরিবারের মধ্যে ১’শত ১০ পরিবার ।
মানুষ বসবাসের জন্য সরকারী ঘর নামে মাত্র বরাদ্দ নিয়ে একই গ্রামের অন্যত্র যার যার সুবিধামত ঘর বাড়ি তৈরী করে বসবাস করছে। পরে থাকা ঘর ব্যবহার না করার জন্য এক পর্যায়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঘর গুলোতে ছাগল,হাঁস-মুরগি পালন হচ্ছে।
এক সময় মাগুড়া আশ্রায়নের বিধবা মুংলী (৬০) নামক এক বৃদ্ধা কালের কন্ঠকে বলেন,এই খান থাইকা কি করবি বাবা,আমাগারে কেউ দেখতে আসেনা,খোজ খবর রাখেনা,আমরা খাই কি খাইনা,কি পইরা থাকি কেউ দেখে না।বান আইসলে চাইর মুরা দিয়া পানি আসে,বৃষ্টি নাইমলে ঘরের ভিতরে পানি ঢোকে,ওই দ্যাখনা বাবা ঘরের ছাউনি ট্যারা,জায়গা জায়গা টিন নাই।এখন তো বাবা শীত মাস পশ্চিমা ঠান্ডা বাতাস আর রাইতে দুডো খেতা গায়ে দিয়া কোন মতো রাইত পার করি।আবার দ্যাখ বাবা আমরা এতো মানুষ এই জায়গা থাকি পায়খানা করার জায়গা নাই, যে কয়ডো আছে আমরা কোন রকমে সাইরা নিচি,টিবল ঠিক নাই পানি খাওয়ার খুব কষ্ট ।এখন আপনে বলেন বাবা এত কষ্টে কি কেউ এখানে থাকে তাই এখান থাইক্যা অন্য জায়গা চোইলা গেছে। এখানে থাইকা এই গেরামের মানুষ দাম দ্যায়না ছোটলোক,কামলা আর গরিব ভাবে,আমাগারে কষ্ট কেউ দ্যখেনা।
একই গ্রামের বিধবা দুলালী (৪৬) অভিযোগ করে বলেন,আমাগারে কোন মেম্বর,চেয়ারম্যান দেখতে আসে না,আসে যখন ভোট লাগে। আমার কেউ নাই,স্বামী মইরা গেচে কয়েক বচর আগে,একটো মিয়া আচিলো বিয়া-দিয়া দিচি আমার ঝামেলা শেষ,এখন আমি সিজানে মাইনসের বাড়ি ধানের চুক্তি দিয়া কাজ করি,ধান গাড়ার সময় বেচন তুইলা কিচু টেকা কামাই কইরা বচর পার করি।আমার কোন চিন্তা নাই,মইরা গেলে ঝামেলা শেষ,কষ্ট একটাই কবর জিয়ারত করার মানুষ নাই।
এ বিষয়ে মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন,আমি আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনেক বার গিয়েছি। বসবাসরত ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করেছি। তাদের অভাব অনটন বিষয়ে অবগত আছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পটি সংস্কারের জন্য আমার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যার বরাবর আবেদন দিয়েছি ।