রুপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে এলাকাবাসি সন্তোষ্ট

রুপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে এলাকাবাসি সন্তোষ্ট

লুৎফর রহমান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে মেধাবী শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ করে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলেন- ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটের ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯)।এ মামলায় বাসটির সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) ৭ বছরের কারাদন্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।রায়ের পর আসামিরা আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আর রায় ঘোষণা সস্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান।
আদালতে বাদীর পক্ষে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার নাছিম মামলা পরিচালনা করেন। আর আসামিপক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল।গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মেধাবী কলেজ ছাত্রী রূপাকে চলন্ত বাসে ছোয়া পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে হত্যার পর টাঙ্গাইলের মধুপুরের পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে লাশ ফেলে রেখে যায়।পুলিশ ওই রাতেই লাশ উদ্ধার করে পরদিন ময়নান্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
ঘটনার দু’দিন পর পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে বড়ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে বোন রূপার লাশ সনাক্ত করেন। গত বছরের ১৫ অক্টোবর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।এরপর গত বছরের ২৫ অক্টোবর আদালত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। মামলায় মোট ৩২ জনের মধ্যে ২৭ জন সাক্ষ্য দেন।
রুপার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামে রায়ের সংবাদ পৌছালে রুপার পরিবার, আত্মীয়স্বজন এলাকাবাসি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন বলেন, রুপা হত্যা রায়ে আমি তথা এলাকাবাসি সন্তোষ্ট। রায়টি দ্রুত কার্যকর করা হোক এটাই এখন আমাদের চাওয়া।