জলঢাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত নোট গাইড বইয়ের জমজমাট ব্যবসা কর্তৃপক্ষ নিরব

জলঢাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত নোট গাইড বইয়ের জমজমাট ব্যবসা কর্তৃপক্ষ নিরব

ফরহাদ ইসলাম,জলঢাকা,(নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা সদরের বইয়ের দোকানগুলোতে চলছে নিষিদ্ধ ঘোষিত নোট গাইড বইয়ের জমজমাট ব্যবসা। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পযর্ন্ত নোট গাইড বই বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ সরকার সম্পূর্নভাবে নিষিদ্ধ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকরি নজরদারীর অভাবে ব্যবসায়ীরা এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যবসা। ফলে এসব নিম্নঃমানের নোট ও গাইড বই পড়ে এবং কিনে প্রতারিত হচ্ছে কোমল মতি শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা। আর এসব নোট গাইড বই নিতে শিক্ষার্থীদের হাতে লিষ্ট ধরে দিয়ে অভিভাবকদের কিনতে বাধ্য করছেন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠন। ২০০৮ সালে নোট গাইড বই বিক্রয় ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করে হাইকোর্ট এবং ২০০৯ সালে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ তা বহাল রাখে।
অভিযোগ রয়েছে ,বছরের শুরুর আগ থেকে এসব নোট গাইড বইয়ের পরিবেশকরা তাঁদের নিযুক্ত প্রতিনিধিরা উপজেলা লাইব্রেরী সমিতি’র সভাপতি সম্পাদকগন তাদের প্রতিনিধির দ্বারা উপজেলার সকল প্রাইমারী,কেজি স্কুল এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসব নিষিদ্ধ নোট গাইড বই চালাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরকে মোটা অংকের বকশিস ও উপঢৌকন দিয়ে তাদেরকে ম্যানেজ করে ব্যবসা করে আসছেন। ফলে তাঁদের মাধ্যমে প্রকাশনী গুলোর নিম্নঃমানের বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষকরা একটি বুকলিষ্ট ধরিয়ে দিয়ে বারবার তাগিদ দিয়ে এসব বই কিনতে বাধ্য করছেন। আর এসব বই চড়া দামে স্থানীয় লাইব্রেরী গুলো থেকে কিনে স্বর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে-লেকচার, জুপিটার,অনুপম,ক্লাসফ্রেন্ড,পাঞ্জেরী,প্রফেসর’স,নবদূত,আই’কনসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা উপজেলায় তাঁদের প্রকাশনার এসব নিম্নঃমানের নোট গাইড বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করছে শিক্ষকসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সহকারী শিক্ষক বলেন,লাইব্রেরীর মালিকগন প্রকাশনীর প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে নিম্নমানের এসব নোট ও গাইড বই চালাতে বাধ্য করছেন প্রতিষ্ঠান গুলোকে।
এদিকে সরকার এসব নোট গাইড বই বিক্রয় এবং বাজারজাতকরন নিষিদ্ধ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী ও আইনি ব্যবস্থা না নেয়ার কারনে দিনদিন বেড়েই চলছে এই অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেট। কোন শক্তির জোরে এসব নিম্নঃমানের বইয়ের ব্যবসা খোলামেলাভাবে চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অভিভাবক মহলে? নিষিদ্ধ নোট গাইড বই বিক্রয় ও মজুদের বিষয়ে উপজেলা লাইব্রেরী মালিক সমিতি’র সভাপতি নিউ সিদ্দেকীয়া লাইব্রেরীর মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন,‘এসব বই বিক্রি করার পেপার্স আছে আমাদের কাছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজল কুমার সরকার বলেন,কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় এসব নিষিদ্ধ নোট গাইড বই ব্যবহার করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চঞ্চল কুমার ভৌমিক এ প্রতিনিধিকে বলেন,নোট গাইড বই বিক্রয় এবং বাজারজাত করা আইন অনুযায়ী বৈধ নয়। এদের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।