আলোচনায় ঢাবি ইফফাত জাহান ইশা

আলোচনায় ঢাবি ইফফাত জাহান ইশা

নিজস্ব প্রতিবেদক,ও শহিদুল্লাহ সালমান,ঢাকা ঃ 

বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ইফফাত জাহান ইশাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের সভাপতি পদে পুনর্বহাল করেছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কমিটিরতদন্তে ইশার দোষ পাওয়া যায়নি। তবে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা ইশাকে নির্দোষ মানছেন না। তাদের দাবি, রগকাটার খবর গুজব হলেও আন্দোলনে যোগ দেওয়া ছাত্রীদের মারধর করায় ইশাকে শাস্তি দিতে হবে।সুফিয়া কামাল হলের ঘটনায় গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে ইশাকে বহিস্কার করে ছাত্রলীগ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি তিন ছাত্রীকে নিজ কক্ষে আটকে রেখে মারধর করেছেন। মোর্শেদা খানম নামের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত পায়ের ছবি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। গুজব ছড়ায় মোর্শেদার পায়ের রগ কেটেছেন ইশা। বিশ্ববিদ্যালয় ও হল থেকেও ইশাকে বহিস্কারের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনকারী ছাত্রীরা তাকে লাঞ্ছিত করে হলছাড়া করে।

তবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমসহ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ইশার পক্ষে দাঁড়ান। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এ ইস্যুতে বিভক্ত। কেউ বলছেন, ইশা নির্দোষ। কেউ অভিযোগ করছেন, ইশা নিয়মিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করতেন। মঙ্গলবার রাতে তাকে লাঞ্ছিত করা ছিল মারধরের ‘প্রতিবাদ’।পাল্টাপাল্টি আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ছাত্রলীগ। ১৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দেয় যে, ইশা নির্দোষ।গতকাল শুক্রবার ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইশা সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে হল সভাপতি পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির নেতারা বলেন, সেই রাতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় ইশাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, ঘটনার ভিডিও এবং প্রমাণ বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, আন্দোলনকারী ছাত্রীরাই ইশার ওপর নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। অভিযোগে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে স্বপদে পুনর্বহালের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক নূর জানিয়েছেন, ইশাকে তারা নির্দোষ মনে করেন না। পরিষদের নেতারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। এ বিষয়ে তারা পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন।গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তিনটি অডিও ও ভিডিও ক্লিপ ছড়ায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, অডিও ক্লিপটি ইশা ও ‘নির্যাতিত’ ছাত্রীদের মধ্যকার কথোপকথন। তবে এ বিষয়ে ইশার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অডিও ক্লিপটিতে শোনা যায়, আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অশ্নীল ভাষায় বকাঝকা করছেন এক নারী। ‘শাস্তি স্বরূপ’ তিন শিক্ষার্থীকে ‘গণরুমে’ (যেখানে গাদাগাদি করে বহুজনকে রাখা হয়) পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন তিনি। নূরুল হক দাবি করেন, ওই নারী কণ্ঠটি ইশার।