আলফাডাঙ্গায় নববর্ষ উদযাপন

আলফাডাঙ্গায় নববর্ষ উদযাপন

 রাকিবুল মিয়া,আলফাডাঙ্গাঃ
প্রকৃতিতে নতুন পাতার উচ্ছ্বাস।পাখির কুহুতানে, শিশুর কলহাস্যে, লোকজ বাদ্য-বাজনার সুর মূর্চ্ছনায়, নতুনের আগমনীতে প্রকৃতি আজ উদ্বেলিত। লাল-সাদা পোশাকে বর্ণিল ডালি সাজিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে নতুন বছর ১৪২৫ বঙ্গাব্দকে সাড়ম্বরে স্বাগত জানিয়েছে বাঙালি।এ উপলক্ষে সারাদেশের নেয় ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলাতেও ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, পেশা ও বয়সের ভেদাভেদ ভুলে সবাই একাত্ম হয়েছিলো ১৪২৫ সালকে বরণ করে নিতে।সমগ্র আলফাডাঙ্গা উপজেলায় দিনভর প্রশাসন,বিভিন্ন শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করে।সকাল ৮টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়ন্তী রুপা রায়ের সভাপতিত্বে বিশাল বৈশাখী র‍্যালি বের হয়।
উক্ত বৈশাখী র‍্যালিতে অংশ নেন রূপালি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক বাংলাদেশ সরকারের সচিব মোঃমঞ্জুরহোসেন,উপজেলা চেয়ারম্যান এম এম জালালউদ্দীন আহমেদ,সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন,পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফার,৩নং আলফাডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ.কে.এম আহাদুল হাসান (আহাদ) প্রমুখ।উক্ত শোভাযাত্রায় প্রশাসনের পাশাপাশি ঢাক-ঢোল, বাদ্য বাজিয়ে নানান সাজে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের লোকজন অংশ গ্রহন করে।বৈশাখের নানা পোশাকে সেজে ছোট,বড়, ছেলে,মেয়ে, ইউএনও,কলেজ অধ্যক্ষসহ এমনকি বুড়োরাও মেতেছিলেন এই উৎসবে।বাঙ্গালীর ঐতিহ্য মাথায় গামছা বেঁধে ও ‘পহেলা বৈশাখ’ লেখা প্লেকার্ড কপালে বেঁধে বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেনসর্বশ্রেণীর মানুষ।শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহনকারীরাতাঁদের নিজস্ব ধারণায় আবহমান বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির চিত্র ফুটিয়ে তুলে।
উপজেলা চত্বর থেকে উপজেলা চৌরাস্তা হয়ে সমগ্র পৌর শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।সেখানে এক অনুষ্টানে প্রশাসনের বিভিন্ন স্থরের কর্মকর্তা,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।পরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে গান পরিবেশন করা হয়।উল্লেখ্য, মোঘল সম্রাট আকবর খাজনা আদায় ও ফসল উৎপাদনের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন।পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসার সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রথম দিন ‘পহেলা বৈশাখ’ দিনটিকে যথাযথ মর্যাদার সহিত উদযাপন করে থাকেন। পুরনো বছরের লেনদেন পরিশোধ করে নতুন খাতা শুরু করার লক্ষ্যে এ দিনটিকে ব্যবসায়ীরা “শুভ হালখাতা” হিসেবে উদযাপন করে থাকেন।