আ. লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলরের মধ্যে হাতাহাতি, উত্তেজনা

আ. লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলরের মধ্যে হাতাহাতি, উত্তেজনা

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর আওয়ামীলীগ নেতা নোমান আহমদ ও বিয়ানীবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এমাদ আহমদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় একজন আরেকজনকে এলাপাতাড়ী কিলঘুষিও মারেন। এতে আহত হন দু’জনই।

উপস্থিত লোকজন তাদের নিবৃত করেন। এঘটনায় নোমান ও এমাদ সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার বিকেলে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের পিএইচজি মডেল হাই স্কুল প্রাঙ্গনে এই ঘটনা ঘটে। আহত কাউন্সিলর এমাদ ও নোমান উভয়েই বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে একই গ্রামের দুই দায়িত্বশীল বাসিন্দার হাতাহাতির ঘটনাটি বিয়ানীবাজারে “টক অব দ্যা টাউন” এ পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, গত কয়েকদিন পূর্বে পৌর আওয়ামীলীগ নেতা নোমান আহমদ তাঁর বাড়িতে নতুন ভবনের কাজ শুরু করেন। নিয়ম অনুযায়ী কাজ শুরুর পূর্বে পৌরসভা থেকে অনুমতি নেয়ার বিধান থাকলেও নোমান তা নেন নি। এক পর্যায়ে ১নং শ্রীধরা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এমাদ আহমদ ভবন নির্মাণের জন্য পৌরসভার অনুমতি নেয়ার জন্য নোমানকে বলেন। কিন্তু তাতে তিনি কর্ণপাত না করায় পরবর্তীতে আবারো কাউন্সিলর এমাদ পৌরসভার অনুমতি নেয়ার জন্য নোমানকে তাগাদা দেন। এতে কাজ না হওয়ায় পৌর মেয়র মো. আব্দুস শুকুর নিজে কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে নোমান আহমদকে মৌখিকভাবে ঘর নির্ধারিত স্থান থেকে আরো দুই ফুট ভিতরে বানানোর জন্য বলেন এবং তার সমাধান হয়। আর এর পর থেকেই শুরু হয় কাউন্সিলর এমাদ ও নোমানের মধ্যকার দ্বন্দ। এর জের ধরে দুই তিনদিন আগে উপজেলা জামায়াতের আমিরের সাথে কাউন্সিলর এমাদের কয়েকটি ছবি নিজের ফেইসবুকে পোষ্ট করেন নোমান আহমদ। যা নিয়ে চলে না আলোচনা ও সমালোচনা।

এদিকে রবিবার বিকেলে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের পিএইচজি হাই স্কুল প্রাঙ্গনে নিজ এলাকার আহত এক শিক্ষার্থীর বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আসেন কাউন্সিলর এমাদ আহমদ, নোমান আহমদ, মহসিন আহমেদ বাবর, আবু হোসেনসহ আরো কয়েকজন। এসময় নোমান আহমদকে তার অনুমতি না নিয়ে ফেইসবুকে ছবি ছাড়ার কারণ জানতে চান কাউন্সিলর এমাদ। এমাদের এমন প্রশ্নে ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেন নোমান। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শুরু হয় উচ্চবাচ্য। এরপর শুরু হয় হাতাহাতি ও কিলঘুষি। এসময় উপস্থিত লোকজন তাদের নিবৃত করেন। এরপর কাউন্সিলর এমাদ ও নোমান ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হলে কাউন্সিলর এমাদ ও নোমান সমর্থকদের মধ্যে দেখা দেয় উত্তেজনা। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর নোমান সমর্থিতরা পৌরশহরে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিলও করেছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ বিয়ানীবাজার থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন।

এবিষয়ে কাউন্সিলর এমাদ আহমদের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, ‘নোমান আহমদ মাসখানেক পূর্বে রাস্থার পাশে নতুন ভবনের জন্য নির্মাণ কাজ শুরু করলে আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার কাছে পৌরসভার অনুমতি নেয়ার বিষয়টি জানতে চাই। কিন্তু তিনি সাড়া না দেয়ায় আমি বিষয়টি পৌর মেয়রকে অবহিত করি। পরবর্তীতে পৌর মেয়র নোমান আহমদের বাড়িতে এসে বিষয়টি সমাধান করেন। আর এরপর থেকেই আমার উপর ক্ষুদ্ধ তিনি। এর জের ধরে গত কয়েকদিন পূর্বে আমার কয়েকটি ছবি তিনি ফেইসবুকে পোষ্ট করেন। আজ রোববার আমি পিএইচজি হাই স্কুল প্রাঙ্গনে তাকে পেয়ে ফেইসবুকে আমার ছবি ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে আমার উপর চড়াও হন। একপর্যায়ে আমাকে মারতে উদ্যত হলে আমি তাকে প্রতিরোধ করি।

কাউন্সিলর এমাদ অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন নোমান আহমদ। আমি এই ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় রাতেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করবো।

এরপর এবিষয়ে জানতে নোমান আহমদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

কাউন্সিলর এমাদ ও নোমান আহমদের ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সী জানান, নোমান আহমদ একটি অভিযোগ দিয়েছিন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

কাউন্সিলর এমাদ আহমদ ও নোমান আহমদের মধ্যকার হাতাহাতির বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে জানিয়ে বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুস শুকুর বলেন, কাউন্সিলর এমাদ ও নোমান আহমদের মধ্যকার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আশা করি, ঘটনাটির সুন্দর সমাধান হবে।