রাজাপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

রাজাপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কামরুল হাসান মুরাদ:

ঝালকাঠির রাজাপুরে ৩০ নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহামুদা খানমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন ঐ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম। মোঃ শফিকুল ইসলাম তার লিখিত অভিযোগে জানায়, দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি করে আসলেও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস করেননি কেউ। গত ২৮ মার্চ ২০১৮ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে অন্যত্র ১ দিনের মধ্যে বিনা তদন্তে প্রশাসনিক বদলি করায় প্রধান শিক্ষক মাহামুদা খানমের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ১২টি বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগ রয়েছে নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি’র যোগসাজসে তার এই বদলির অভিযান। মেধা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতি পাওয়া প্রধান শিক্ষক মাহামুদা খানম কর্তৃক সম্প্রতি এই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দোকান নির্মাণ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের কিছু গাছ কিছুদিন আগে অবৈধভাবে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকার গাছ বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে এক হাজার টাকা গোপনে জমা করেন তিনি। বই ব্যাবসায়ীদের অবৈধ গাইড ব্যবসা চালিয়ে যেতে প্রতি বছরের মত এ বছরও তিনি চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছে লেকচার গাইড এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছে জুপিটার গাইড বিক্রি করতে সহযোগিতা করছেন। আর এসবই করা হচ্ছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় বসে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ। ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় প্রধান শিক্ষক বেশির ভাগ সময় থাকেন অনুপস্থিত। সমিতির নেতা এই সুবাধে শিক্ষক বদলিতে নীতিমালা লঙ্ঘন করে উৎকোচের মাধ্যমে তিনি শিক্ষক বদলী বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। উপজেলার মধ্যে বদলী হতে হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং জেলার মধ্যে বদলী হতে হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দ্বারস্থ হতে হয়। এ দ্বারস্থের মাধ্যম হিসাবে সুবিধালোভী এই প্রধান শিক্ষক উৎকোচের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে বদলি করিয়ে নিচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বদলি নীতিমালা লঙ্ঘন এবং তথ্য গোপন করে বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ,বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশিকা, জেষ্ঠতা ও চাকুরী বিধি অমাণ্য করে কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সহকারি শিক্ষকদের বিভিন্ন স্কুলে বদলি করেছেন। শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করে কর্মকর্তার প্রশাসনিক ক্ষমতাকে সাধারন শিক্ষকদের উপর তিনি ব্যক্তিগত আক্রোস প্রয়োগ করেন। রাজাপুরের ৩০ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা যেন প্রধান শিক্ষকের দাবা খেলার গুটি। বিদ্যালয়ে এই প্রধান শিক্ষকের ইচ্ছেমতো আসা যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সহকর্মী শিক্ষকদের উপর। সহকর্মীদের সাথে সমন্বয়হীনতা এবং তাহার এমন স্বেচ্ছাচারীতার ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, হুমকির সম্মুখীন অত্র এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ। এদিকে পাকা দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে অনিয়মান্ত্রিক ভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মান করা খুবই দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে দখল মুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এতে করে অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা বিরাজ করেছে। ফলে নিজ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত এলাকার সচেতন অভিভাবকগণ। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম বন্ধে তদন্ত করার দাবি তাদের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুলে কাছে বিদ্যালয়ে জায়গায় বানিজ্যক উদ্দেশ্যে প্রধান শিক্ষক দোকান নির্মান করার ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যপারে আমার জানা নেই। প্রাথমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইয়াদুজ্জামানের কাছে বিদ্যালয়ে জায়গায় বানিজ্যক উদ্দেশ্যে প্রধান শিক্ষক দোকান নির্মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যপারে আমার জানা নাই। বিদ্যালয়ের অন্য বিষয়ে জানতে চাইলে রাস্তায় ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান। উল্লেখ্য গত সপ্তহে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এই বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে এসেও নির্মানাদীন দোকান দেখেও রহস্যজক কারনে এড়িয়ে যান।
অভিযোগকারী মোঃ শফিকুল ইসলামের কাছে এ ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সচিব, মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে অভিযোগ দেয়ার কথা শিকার করে বলেন, এখনও তদন্তের জন্য আমাকে ডাকা হয়নি। এব্যপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাহামুদা খানমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সহকারি শিক্ষক শফিকের বিরুদ্ধে মহিল সহকর্মমীদের সাথে অনৈতিক আচরনের কারনে তাকে অনত্র বদলির সুপারিশ করায় সে আমার বিরুদ্ধে উল্লোখিত অভিযোগ গুলো তুলেন। যাহার কোন ভিত্তি নাই বলে দাবী করেন। সরকারি জমিতে দোকান নির্মান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের আনুসাঙ্গিক বাড়তি ব্যয় মিটানোর জন্য পরিচালনা কমিটির সম্মতিতে দোকানঘর নির্মানের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খলিফার কাছে দোকান নির্মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক মাহামুদা খানমের প্রস্তাবিত বিষয়টি বিদ্যালয়ের স্বার্থে আমরা সম্মতি প্রদান করেছি।